kalerkantho


ফতুল্লায় হালিম হত্যার দায়ে ৪ জনের ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার ওয়ার্কশপ মালিক আবদুল হালিমকে (৩০) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে একই সঙ্গে আরো সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরো ছয় মাস করে কারাভোগ করতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান এ আদেশ দেন। নিহত আবদুল হালিম ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো ইকবাল হোসেন (৩০), সোহাগ (৩০), সাদেকুর রহমান (৩৮) ও বাবু কাজী (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায়। হত্যার অভিযোগে চারজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে রায়ের আদেশে বলা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক ছিল। এ মামলায় তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত তিন আসামি হলো আবুল হোসেন, মেহেদী ও মোক্তার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় এদের তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, কয়লা ব্যবসার জন্য চুক্তি ভিত্তিতে আবদুল হালিমের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিল ইকবাল। পরবর্তী সময় দীর্ঘদিন ওই ব্যবসার লাভ কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো টালবাহনা করছিল। এসব কারণেই বিরোধের জের ধরে ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আবদুল হালিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ইকবাল। সেখানে ছাদে প্রথমে ইকবাল হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অচেতন করে হালিমকে। তারপর ধারালো দেশি অস্ত্র দিয়ে কেটে পাঁচ টকুরো করে লাশ গুম করে ফেলে। ঘটনার পরদিন হালিমের ছোট ভাই শামীম উদ্দিন বাদী হয়ে ইকবালের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথমে সাদেকুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তাঁর দেওয়া তথ্যে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় আবদুল হালিমের বস্তাবন্দি অবস্থায় হাত-পাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের বাবা আফসার উদ্দিন বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। যে তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’



মন্তব্য