kalerkantho


মানববন্ধনে ফখরুল

নির্বাচন নিয়ে তামাশা চলছে তার পরও আমরা যাচ্ছি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচন নিয়ে তামাশা চলছে তার পরও আমরা যাচ্ছি

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন নির্বাচন নিয়ে খেলা আর তামাশা চলছে। তার পরও আমরা তামাশায় যাচ্ছি। জনগণ চাচ্ছে আমরা নির্বাচনে যাই, যেন সরকারের অন্যায় কাজকে আমরা উন্মোচিত করি। এটা মনে রাখতে হবে, এই যাওয়াটাই স্থায়ী নয়। গতকাল বুধবার এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুর্নীতি যে পর্যায়ে চলে গেছে তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সোনার বদলে রাখা হয়েছে ধাতব। অলংকার বদলে রাখা হয়েছে নকল জিনিসপত্র। এর আগে বহু টাকা হ্যাকিং করে নিয়ে চলে গেল, যার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সরকার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ফোকলা করে দিয়েছে, মাইক্রো ইকোনমি সিস্টেমকে শেষ করে দিয়েছে। প্রতিদিন দেশে রেমিট্যান্স কমছে, বিনিয়োগের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একটাও বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ তারা আনতে পারেনি। জনগণের পকেট থেকে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প চালাচ্ছে। ওই সব প্রকল্পে লাভ হচ্ছে শুধু ক্ষমতাসীনদের। বিদেশে সবার বাড়ি, সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বাড়ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয় না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ মানবাধিকার প্রতিবেদন মঙ্গলবার বেরিয়েছে। সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক নির্যাতন বেড়েছে। মিডিয়ার ওপরে চাপ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চাকরিতে কোটা সংস্কার কিংবা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে না। যেটা সত্য তা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে সত্যকে প্রকাশ করা। কোটা সংস্কার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ইউটার্ন করেছেন। কোটা থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়ে এখন বলছেন হাইকোর্টের রায়ের বাইরে তিনি যেতে পারেন না। এদিকে খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে আটকে রেখে তাঁকে কোনো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না। চিকিৎসদের, পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দিচ্ছেন না।

পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা চলে গেছে। এই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে আমাদের দিল্লির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, দেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও জনগণের মুক্তি আজকে একাকার হয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি ঘটবে না।’



মন্তব্য