kalerkantho


মিথ্যা ঘোষণায় আসা পণ্য আটকে বন্দরে বেড়েছে নজরদারি

ফারজানা লাবনী   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অসাধু চক্র নিয়ে আসছে অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্যসামগ্রী। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবহার করা হচ্ছে বন্দর। মিথ্যা ঘোষণার কারণে রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এই অপরাধীদের কারণে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত উদ্বিগ্ন মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি-রপ্তানির ঘটনায়। এ অবস্থায় দুই দেশের বন্দরে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর দেশের বন্দরগুলো কড়া নজরদারি করতে নিযুক্ত করেছে অধিক জনবল।

এনবিআর সূত্র জানায়, লোকবলের অভাবে ও অটোমেশন না থাকায় সমুদ্র ও স্থলবন্দরে পণ্যভর্তি কার্টন, কনটেইনার, প্যাকেটসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক খুলে ঠিকমতো দেখা হয় না। প্রকৃতপক্ষে কোন জাতীয় পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে তা সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। শুল্ক কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র দেখে পণ্য ছাড় করে থাকে। এভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বেশির ভাগ মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আবার ভারতসহ অন্য দেশে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের চালান আটক করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। উভয় দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির ঈদে বন্দরের আশপাশে চোরাইপথে গরু প্রবেশ করানো হয়। আবার কোরবারির পশুর চামড়া পাচার করা হয়। সে বিষয়েও শুল্ক গোয়েন্দারা নজর দিচ্ছে।’

সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে সম্প্রতি বৈঠকে হয়েছে। তাঁদের বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে, চোরাচালান ও  মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সমুদ্র ও স্থলবন্দরে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত চিঠিতে বলেছে, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মিথ্যা ঘোষণায় দেশে পণ্য প্রবেশে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বন্দরসংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র জানায়, বন্দরে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। তাঁদের বলা হয়েছে যেকোনো দেশ থেকে পণ্য প্রবেশকালে বা পণ্য পাঠাতে হলে ন্যূনতম সন্দেহ হলেই তা যাচাই করতে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কোন ধরনের পণ্য আছে এমন সব ছোট-বড় কার্টন, কনটেইনার, প্যাকেট যাচাই করে ছাড় করাতে বলা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া ‘আপত্তিকর পণ্য’ শনাক্তের পর তা আটক করে সরাসরি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানাতে বলা হয়েছে।

দুই দেশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বেনাপোল, সোনামসজিদ, আখাউড়া ও হিলি স্থলবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে বলা হয়েছে, ভারতের কালিরানী, আংরাইল, হরিদাসপুর, জয়ন্তীপুর, বানোবেরিয়া, সুটিয়া ও বাঁশঘাটে নজরদারি জোরদার করতে।



মন্তব্য