kalerkantho


বেসিক ব্যাংকের ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলা

দুই আসামি কত টাকা পরিশোধ করেছে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বেসিক ব্যাংকের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের শর্তে জামিন নেওয়া দুই আসামি ইয়াসির আহমেদ খান ও কামাল জামান মোল্লা শর্তানুযায়ী কত কিস্তি টাকা পরিশোধ করেছেন, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। 

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ড. কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। দুই আসামির জামিন বাতিল চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেন আদালত। আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

ভাসাভি ফ্যাশন লিমিটেড ও তাহমিনা ডেনিম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইয়াসির আহমেদ খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কামাল জামান মোল্লার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় অভিযোগ, তাঁরা ভুয়া জামানত দিয়ে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেসিক ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ৪৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ মামলায় ওই দুজন ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শিফার আহমেদ, উপব্যবস্থাপক এস এম জাহিদ হাসান ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মঞ্জুর মোরশেদসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় কিস্তিতে টাকা পরিশোধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ইয়াসির ও কামাল। হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর এক আদেশে দুই বছরের মধ্যে সমান হারে ৪০টি কিস্তিতে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরে এ মামলায় দুদক ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এ অবস্থায় চার কোটি ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৪ টাকা জমা দিয়ে তাঁরা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। জামিন আবেদনে অসুস্থতারও কারণ দেখানো হয়। এ আবেদনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) গত বছরের ১১ জানুয়ারি তাঁদের জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেপ্তারের এক মাসের মধ্যে জামিন হওয়ায় দুদক জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে। এ আবেদনের শুনানিতেই হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন তাঁরা শর্তানুযায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন কি না।



মন্তব্য