kalerkantho


‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ সদস্যরাও অপরাধ করলে বাদ যাবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেলে সেটার তদন্ত হচ্ছে। দু-একজন কারান্তরীণও হয়েছে। গডফাদারদের ধরা হচ্ছে। আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম মাদক কারবারিদের তালিকা করার জন্য। পাঁচটি তালিকা পাওয়া গেছে। পাঁচটি তালিকায় যার নাম কমন রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা অপরাধ করলে বাদ যাবেন না। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যা যা করণীয়, তা-ই করা হচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন সহযোগিতার। যুদ্ধ করে কোনো কিছুর সমাধান করা যায় না। তাদের মতো আমরাও জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারি না।’

রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ইউনাইটেড নেশনে বলে এসেছি রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের জন্য। এই সমস্যা সামাধান না হলে এদের সন্ত্রাসের দিকে টার্গেট করা হতে পারে। আমাদের নজরদারিতে আছে তারা।’

রোহিঙ্গারা এ দেশের পাসপোর্ট করতে পারছে, দেশের বাইরে যেতে পারছে। এ দায় কার? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে অঞ্চলটিতে তারা আছে তার পাশেই মিয়ানমার। এখানে আগে থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজন থাকতে পারে। তারা শেল্টার দিতেই পারে। সেই আত্মীয়-স্বজনরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করিয়ে নিচ্ছে কি না, দেখা হচ্ছে। যারা ধরা পড়ছে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি। সেই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। যত দিন কন্ট্রোল না হবে, তত দিন এই যুদ্ধ চলবে।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে তাঁর দলের তরফ থেকে বলা হচ্ছে। তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে বাধা কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনার অবস্থা এত গুরুতর নয়। আমরা প্রতিদিন খবর রাখছি। কারা চিকিৎসক প্রতিদিন খবর রাখছেন। তিনি যে অসুস্থতা নিয়ে কারাগারে এসেছিলেন, এখনো সেগুলোই আছে। নতুন করে কোনো রোগ হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁকে দেখেছেন। প্রয়োজন হলে আবার দেখবেন। কারাবিধি অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার, তিনি সবই পাচ্ছেন। এর পরও সিরিয়াস হলে আমরা দেখব।’

 



মন্তব্য