kalerkantho


সরেজমিন ২৬-৩০ নম্বর ওয়ার্ড

‘মেয়র যে দলেরই হোক উন্নয়ন চাই’

রফিকুল ইসলাম ও রেদওয়ানুল হক, রাজশাহী   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে এখন সরগরম রাজশাহী। চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের কাছে দোয়া আর ভোট চাইছেন তাঁরা। নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বিগত দিনগুলোতে অবহেলায় ডুবে থাকা সাধারণ মানুষের নতুন মেয়রের কাছে অনেক প্রত্যাশা। সিটি করপোরেশনের ২৬ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে তাদের প্রত্যাশার কথা। ওয়ার্ডবাসীর সাফকথা, ‘মেয়র যে দলেরই হোক উন্নয়ন চাই।’

সম্ভাবনার পরও অবহেলিত : নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বুধপাড়া, মির্জাপুর, চৌদ্দপাই, মাসকাটাদিঘী ও মহনপুর এলাকার বাসিন্দারা জানায়, এই ওয়ার্ডটি ঘনবসতিপূর্ণ। ভোটার ১২ হাজারের বেশি। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি কর পায় সিটি করপোরেশন। তবুও এলাকার উন্নয়নে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বুধপাড়া থেকে খড়খড়ি বাইপাস পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কটি এতটাই সরু যে একটি ট্রাক ঢুকলেই সড়কে আর দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।

বিএনপি-আওয়ামী লীগ যেই আসুক না কেন এলাকার উন্নয়ন চাই : বিএনপি-আওয়ামী লীগ যে পক্ষের প্রার্থীই মেয়র হোক না কেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসী তাঁর কাছে উন্নয়ন চায়। গতকাল মঙ্গলবার এই ওয়ার্ডের আওতাধীন খোজাপুর এলাকায় এক বৃদ্ধকে দেখা গেল ড্রেন পরিষ্কার করতে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ না করায় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছেন। রোজিত ঘটক নামের এই বৃদ্ধ বলেন,  ‘নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা আমাদের মন জোগাতে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আমাদের কোনো খোঁজ নেন না।’

পর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা নেই, সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট : পর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলের মোড় এলাকা থেকে শুরু করে ডাশমারি বাঁধ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। রাস্তার বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় খানাখন্দ থাকলেও তা সংস্কারে দীর্ঘদিন কোনো পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারায় এলাকায় বেকারদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এতে মাদকসেবীদের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ী মো. সাজু। কাজলা এলাকার আরেক বাসিন্দা মোকসেদুল ইসলামের বাড়ির সামনে চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। ছোট্ট একটি ড্রেন থাকায় সেটিই চলাচলের একমাত্র ভরসা। আবার সেই ড্রেনটিও নোংরা। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নতুন সিটি মেয়র এসব সমস্যা দূরীকরণে কাজ করবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।

পানির সমস্যা সমাধান চায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী : ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর, টিকাপাড়া, মীরের চকসহ কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সাপ্লাইয়ের পানিতেও প্রায় ময়লা পাওয়া যায়। পানি কখনো থাকে, কখনো থাকে না। প্রায় পানির সংকট দেখা দেয়। মাঝেমধ্যেই পানিতে শ্যাওলা ভাসতে দেখা যায়।

পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবাসহ এলাকায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রয়োজন : রাজশাহীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া মহল্লাটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না ওই এলাকার মানুষ। বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল আর খাজনা বাড়লেও আয় না বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ।

ওই এলাকার বাসিন্দা রবিউল করিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমাদের ওয়ার্ডটিতে তেমন কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম নেই। ড্রেনেজব্যবস্থা থাকলেও তা পরিষ্কার করা হয় না প্রায় বছর হলো। রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর চলাচলেও খুব সমস্যা হয়। এলাকায় চিকিৎসাসেবাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।’



মন্তব্য