kalerkantho


মাদক শনাক্তকরণে এলো আধুনিক যন্ত্র

কৈকার সহায়তায় ২৯ ধরনের যন্ত্রপাতি পেয়েছে ডিএনসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মাদক শনাক্তকরণে আধুনিক যন্ত্র পেতে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই যন্ত্র ব্যবহার করে তারা মাদক শনাক্ত করতে পারবে। ড্রাগ ডিটেক্টর বা মাদক শনাক্তকারী এমন ছয়টি যন্ত্র পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ‘দ্য প্রজেক্ট ফর ইলিসিট ড্রাগ ইরাডাকশন অ্যান্ড অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট থ্রো ইট (আই ড্রিম ইট)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোরীয় সংস্থা কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কৈকা) এসব যন্ত্র দিয়েছে।

রাজধানীর তেজওগাঁওয়ে ডিএনসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে ড্রাগ ডিটেক্টরসহ ২৯ ধরনের যন্ত্রপাতি, তিনটি পিকআপ, দুটি মাইক্রোবাস ও ১৫০টি কম্পিউটার হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চার মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৭ কোটি টাকা) ‘আই ড্রিম ইট’ প্রকল্পের আওতায় ডিএনসিকে মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবহন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে কৈকা। ফলে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অধিদপ্তরের ৩৭ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম দেশের জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ডিএনসি কয়েক বছর ধরেই বিমান ও স্থলবন্দরে ড্রাগ ডিটেক্টর ব্যবহারের গুরুত্বের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছিল। প্রথম পর্যায়ে পাওয়া এসব যন্ত্র ঢাকা ও কক্সবাজারের বিমানবন্দরসহ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যন্ত্র ব্যাগ, লাগেজ বা প্যাকেটের সংস্পর্শে আনলেই ভেতরে মাদকদ্রব্য আছে কি না সেই সংকেত পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থানে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে যেখানে মাদকের সন্ধান মিলবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। সেখানেই চলবে অভিযান। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হবে। সরকার মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। কৈকা তথা কোরিয়ার এই সহায়তা মাদক নিয়ন্ত্রণ কাজকে আরো গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

কৈকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জো হান-গু বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই প্রকল্পে অর্থের পরিমাণ বেশি নয়। তবে এর আওতায় ডিএনসিকে যেসব যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার সরবরাহ করা হলো তা দিয়ে মাদক নির্মূলের পথ সহজ হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক শনাক্তকরণে সক্ষমতা বাড়বে।’

ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, এসব যন্ত্রের মাধ্যমে ৩৭টি সেবা দেওয়া সহজ হবে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের কাছে সেবাগুলো দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যাবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগার আধুনিক করা হবে।

ডিএনসির পক্ষে প্রকল্পটির পরিচালক সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ড্রাগ ডিটেক্টরের চাহিদা দীর্ঘদিনের। যন্ত্রটি ব্যবহার করলে এর কাছে বা সংস্পর্শে আনলে কোনো ব্যাগ ও অন্য কিছুর মধ্যে লুকানো মাদকদ্রব্য ধরা পড়বে। প্রথমদিকে যন্ত্রগুলো পোর্ট এলাকায় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের ফলে দেশে নতুন একটি চর্চার সূচনা হবে।

 

 



মন্তব্য