kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

সম্পূরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ খালেদার আপিলের শুনানি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার মূল আপিলের ওপর শুনানি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের শুনানিতে সম্পূরক পেপারবুক তৈরি করার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের একটি আবেদন আংশিক মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। এর আগে পেপারবুকে কী কী ডকুমেন্টস নেই সে বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। তাঁর দেওয়া প্রতিবেদনে কিছু নথি না থাকার কথা স্বীকার করে নেওয়ায় আদালত সম্পূরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন।

এ আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের আবেদনই সত্য। পেপারবুকে সব ডকুমেন্টস দেয়নি।’ তখন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এই ভুল ইচ্ছাকৃত নয়। এর মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।’ আদালত বলেন, আবেদনের সত্যতা থাকার কারণেই আংশিক মঞ্জুর করা হলো। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল মূল আপিলের শুনানি শুরু করার আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আগামী রবিবার পর্যন্ত সময় চান। সময় বৃদ্ধির আবেদন আংশিক মঞ্জুর হলে তিনি বলেন, আদালত সম্পূরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে এটা প্রমাণিত যে অসম্পূরক পেপারবুক দিয়েই তড়িঘড়ি করে মামলার শুনানি শুরু করা হয়েছে। যেটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা শুধু একটি মামলায় (খালেদা জিয়ার মামলা) এই নীতি জলাঞ্জলি দেবেন না এই আদালত।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘পেপারবুকে সব ডকুমেন্টস থাকতে হবে—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য আমাদের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আপনারা তো আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন মুলতবি রাখা হয়েছে। এর অর্থ আগের আদেশ বহাল রয়েছে। তাই সময় দেওয়া যাচ্ছে না। আপনারা শুনানি করতে থাকুন। রবিবারের মধ্যে সব পেয়ে যাবেন। তা যদি না পান তবে যা হওয়ার তাই হবে।’ এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে আবদুর রেজাক খান শুনানি শুরু করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং কাজী সালিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

কটূক্তির মামলা : বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে  ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে কি না সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৯ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ নতুন এ তারিখ ধার্য করেন। গত ৩০ জুন শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস প্রতিবেদন দাখিল করেন।  এ ছাড়া মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানান। গতকাল শুনানি শেষে আদালত আগামী ধার্য তারিখে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে কি না সে বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়েও আদেশের দিন ধার্য করেন।

 



মন্তব্য