kalerkantho


বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় গুজরাটি ঝংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় গুজরাটি ঝংকার

ভারতের গুজরাটের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। সেখানকার লোকজ ধারার নৃত্য গর্বা বেশ জনপ্রিয়। শুধু গর্বা নৃত্য নয়, গুজরাটের রয়েছে ধ্রুপদি নৃত্য ঐতিহ্য। রাজধানীর দর্শক গতকাল রবিবার বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় উপভোগ করে গুজরাটি নৃত্য। বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আয়োজন করে এই গুজরাটি নৃত্যসন্ধ্যা।

মনোজ্ঞ এ গুজরাটি নৃত্যসন্ধ্যায় অংশ নেন গুজরাটের যমুনাঘরের পুলিশ রাস মণ্ডল দলের বারো সদস্য। পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় মিলনায়তনভর্তি দর্শক। দলের নামের সঙ্গে পুলিশ যুক্ত থাকলেও নৃত্যশিল্পীদের কেউই পুলিশ সদস্য নন। দলটি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নৃত্য পরিবেশন করেছে।

কথন ছাড়াই সূচনা হয় নৃত্য পরিবেশনা। তাঁদের পরিবেশনা ছিল রাস নৃত্য; যে রাস নৃত্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপিনীদের নিয়ে বৃন্দাবনে ও গোকুলে পরিবেশন করতেন। ভারতে মূলত নবরাত্রির রাতে, মানে দুর্গাপূজার নবমী রাতে এ নৃত্য পরিবেশনা খুবই জনপ্রিয়।

পুলিশ রাস মণ্ডলের শিল্পীদের পরিবেশনাটি ছিল দুই পর্বের। শুরুতেই তাঁরা পরিবেশন করেন গর্বা নৃত্য। ‘হাম দিল দে চুকে সানম’ চলচ্চিত্রে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে এ নৃত্য খুবই জনপ্রিয়। পুলিশ রাস মণ্ডলের শিল্পীরা এ নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে শুরুতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা করেন। এরপর ছিল ডাণ্ডিয়া নৃত্য। জমকালো পোশাকের সঙ্গে লাঠি আর পায়ের ছন্দে অনবদ্য এ নৃত্যও মন জয় করে দর্শকদের। এরপর তাঁরা একে একে পরিবেশন করেন টিপ্পনী রাস, অ্যানসিয়েন্ট রাস ও সোর্ড রাস। সব শেষে গোপগালন রাস পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিবেশনা শেষ করে দলটি।

শিল্পকলায় ‘জীর্ণতায় সুন্দর’ : শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-৬-এ শুরু হয়েছে ‘জীর্ণতায় সুন্দর’ শিরোনামে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন পর্ষদ। গতকাল রবিবার বিকেলে একাডেমির চিত্রশালা প্লাজা মিলনায়তনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলপ্তগীন তুষার। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসচিব শাহজাহান আলম সাজুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের পরিচালক সুরাইয়া আক্তার চিশ্তী রিমা।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এ পৃথিবীতে কোনো কিছুই ফেলনা নয়। মানুষ যদি তার সৃজনক্ষমতা, ইচ্ছা ও কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগায়, তাহলে এ পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তোলা অসম্ভব নয়।

সুরাইয়া আক্তার চিশ্তী রিমা জানান, প্রদর্শনীর জন্য প্রায় দেড় শ জন শিল্পীর সহস্রাধিক শিল্পকর্ম জমা পড়েছিল। তা থেকে ৪০ জন শিল্পীর বাছাই করা ১৩০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, ট্যাপেস্ট্রি, আলোকচিত্র। তিনি জানান, এসব শিল্পকর্মের বেশির ভাগই ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে পাথরকুচি, কাচের গুঁড়া, মাছের আঁশ, কাঠের টুকরা, ডিমের খোসা ইত্যাদি।

প্রদর্শনীটি আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 



মন্তব্য