kalerkantho


মহাখালীতে যুবলীগকর্মীকে গুলি করে হত্যা

৫০০ টাকার জন্য ভাঙ্গারি বিক্রেতা খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মহাখালীতে যুবলীগকর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাজধানীর বনানী থানার মহাখালীতে কাজী রাশেদ (৩২) নামের এক যুবলীগকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাশেদের লাশ গতকাল রবিবার সকালে রেইনবো নিউজ২৪ ডটকম অফিসের নিচে পাওয়া যায়। রাশেদের স্বজনরা হত্যাকাণ্ডের জন্য পোর্টালটির প্রকাশক ও বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলকে দায়ী করছে। রাশেদের শরীরে সাতটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। গত শনিবার বিকেলে তিনি সোহেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আর ফেরেননি বলে স্বজনরা বলছে।

এ ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আদাবরের শ্যামলী হাউজিং প্রকল্প এলাকায় ছুরিকাঘাতে বাছির তালুকদার (৪৫) নামের এক ভাঙ্গারি বিক্রেতা খুন হয়েছেন। আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বাছির হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সুনেশ্বর গ্রামের আম্বর আলীর ছেলে। অভিযুক্ত আলমগীরের বাড়ি একই গ্রামে।

গতকাল দুপুরে মহাখালী গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাশেদ সোহেলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মহাখালী স্কুল রোডের জি, পি, গ ৩৩/১ নম্বর ভবনের নিচতলায় আড্ডা দিতেন দুজন। এ ভবনেই পোর্টালটির অফিস। রাশেদের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার বিকেলে এ অফিসেই গিয়েছিলেন রাশেদ সোহেলের সঙ্গে দেখা করতে। গতকাল সকালে অফিসের পেছনের গলির রাস্তার ওপর রাশেদের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায় মুসল্লিরা।

ঘটনাস্থলের অদূরেই রাশেদদের বাড়ি। গতকাল দুপুরে ওই বাড়িতে কথা হয় সন্তান হারিয়ে আহাজারিরত রাবেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সোহেলই রাশেদকে হত্যা করেছে।’ রাশেদের ছোট ভাই রাজন হোসেন বলেন, ‘ভাই যুবলীগকর্মী ছিলেন। যুবলীগ নেতা সোহেলের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। দুজন একসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। ছয় বছর পর দেশে ফিরে আসেন। দুজনের সম্পর্ক প্রায় ২০ বছরের। সম্প্রতি তাতে ফাটলের সৃষ্টি হয়। রাশেদ আর সোহেলের সঙ্গে থাকতে চাচ্ছিলেন না। এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল।’  রাজনের সন্দেহ, তাঁর ভাই সোহেলের কোনো কুকর্মের তথ্য জেনে ফেলেছিলেন।

গতকাল সোহেলের অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন জানালেন, বাইরে সিসি ক্যামেরা আছে, যা সোহেলই অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনার আগে বা পরে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। রাশেদের বাবা আবুল হোসেন গাড়িচালক। রাশেদের আরহাম নামে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

ডিবির উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কে বা কারা জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন আলম বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে।

৫০০ টাকার জন্য খুন : আদাবর থানার ওসি কাওসার আহমেদ বলেন, এলাকার একটি মেসে বাছির তালুকদারকে ছুরি মেরে হত্যা করেছেন আলমগীর নামে একজন। দুজন মেসে একসঙ্গে থাকতেন এবং খুচরা জিনিসপত্র ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করতেন। আলমগীরের বাবার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন বাছির। এখান থেকে ৫০০ টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তর্কের মধ্যে আলমগীর বাছিরকে ছুরিকাঘাত করেন। আলমগীর এখন পলাতক।



মন্তব্য