kalerkantho


মহাসড়কের ওজন স্কেল বাদ দিতে আন্দোলনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মহাসড়কের ওজন স্কেল বাদ দিতে আন্দোলনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেতে সাত দিনের মধ্যে গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র (স্কেল) সরিয়ে না নিলে ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন চট্রগ্রামের ব্যবসায়ীরা। গতকাল রবিবার ২৮টি সংগঠনের পক্ষে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। দাবি আদায় না হলে চট্টগ্রামের পাইকারি পণ্যের বাজার ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান ব্যবসায়ীরা। পাঁচ দফা দাবিতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে তাঁরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। এদিকে মেয়র ব্যবসায়ীদের এসব দাবির সমর্থনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সকালে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান-দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে নগরের আন্দরকিল্লায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে মানববন্ধনে অংশ নেন খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ সিমেন্ট আয়রন অ্যান্ড স্টিল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতি, রাইচ মিল মালিক সমিতি, নবী সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, ইলিয়াস মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, খাতুনগঞ্জ চিনি ও ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতি, চট্টগ্রাম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী গ্রুপ, বৃহত্তর চাক্তাই খাতুনগঞ্জ শ্রমিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, নানা রকম বৈষম্যের শিকার হয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আগামী সাত দিনের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন স্কেল প্রত্যাহার করা না হলে খাতুনগঞ্জের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক অনিল চন্দ্র পাল বলেন, মহাসড়কে দুটি ওজন স্কেলের কারণে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে মালামাল কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সিটি মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দাবি বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়ীরা সাত দিন সময় বেঁধে দেন। তাঁরা সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাট ও দাউদকান্দি এলাকায় গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে রয়েছে মিরসরাইয়ের ভ্যাট তল্লাশি কেন্দ্র তুলে দেওয়া, চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিরসন, শিল্পাঞ্চলে পানি স্বল্পতা দূরীকরণ, চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় কৃষিপণ্যের আমদানি ঋণপত্র ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়।

এদিকে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকালই ব্যবসায়ীদের দাবি পূরণের জন্য যোগাযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সচিব মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রীর সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীবৃন্দের আর্থিক ক্ষতি নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। দেশের অন্যান্য মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্কেল ব্যবহার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই এক্সেলবিশিষ্ট মোটরযানে ১৩ টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে অনুরোধ জানান তিনি।



মন্তব্য