kalerkantho


রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান

‘আমি তামুক খাই আর খামু না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুপুর সাড়ে ১২টা। গতকাল রবিবার এই সময়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে রাজধানীর মুগদা স্টেডিয়ামের গেটে জড়ো করে। তাঁদের একজনের নাম মো. নাসির। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি একজন রিকশাচালক। সকালে মুগদা এলাকায় একটি ভ্যানগাড়ির ওপর বসে ছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে এসেছে। মাদক সেবন করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নেশা করি।’ কী নেশা করেন? নাসিরের জবাব, ‘তামুক খাই। স্যার, আর আমি তামুক খামু না। আমি আর নেশা করুম না।’

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গতকাল রাজধানীর মুগদা, মতিঝিল, খিলগাঁও ও পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। নেতৃত্ব দেন মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন। সকাল ৯টার দিকে চার শতাধিক পুলিশ দক্ষিণ কমলাপুর, গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ, মুগদার মাণ্ডা, মানিকনগর, স্টেডিয়াম এলাকা ও খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ ও গোড়ান এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মুগদা এলাকায় পুলিশের এ অভিযানের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রিজন ভ্যান ও পিকআপে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। পুলিশের একটি পিকআপে তোলা হয় রমজান নামের একজনকে। পুলিশের দাবি তিনি মাদকসেবী। গাড়ির পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী আকলিমা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁদের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁর স্বামী রিকশা চালান। মুগদার চান্দের গলিতে তাঁর এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন চার দিন আগে। গতকাল দুপুরে খেতে বসেছিলেন রমজান। এ সময় পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে আসে। আকলিমা গাড়ির কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাঁর কোলে থাকা শিশুসন্তান রিয়ামণিও কাঁদছিল।

মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, চারটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন মাদক কারবারি। মাদকসেবী ৪৩ জন। এদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছে। অভিযানের সময় ৪৬২ পিস ইয়াবা এবং প্রায় চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

মতিঝিল এলাকার কমলাপুর, মহানগর নাট্যমঞ্চ এলাকায় ছোট শিশুদের ড্যান্ডি নামের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। তাদের বিষয়ে পুলিশ কী করবে—এ প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব শিশু ড্যান্ডিতে আসক্ত তাদের পুনর্বাসনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে দিয়ে দেওয়া হবে।’

গতকাল অভিযানের সময় মুগদা এলাকার মানুষকে খুশি হতেও দেখা গেছে। এলাকাবাসী জানায়, স্টেডিয়ামের আশপাশ এলাকা মাদকসেবীদের আখড়া। রাতের বেলা তো বটেই দিনেও মাদকসেবীরা গাঁজা, ইয়াবা এসব সেবন করে। মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর কিছুটা কমেছে। এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের এই অভিযান যদি অব্যাহত থাকে তাহলে মাদকসেবীদের হাত থেকে হয়তো আমরা বাঁচতে পারব। আর যদি লোক-দেখানো অভিযান হয় তাহলে কোনো লাভ হবে না।’



মন্তব্য