kalerkantho


গাজীপুরে ‘জঙ্গি’র ডেরায় অভিযান

একজন আটক বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরে ‘জঙ্গি’র ডেরায় অভিযান

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আস্তানা সন্দেহে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক বাড়ি ঘিরে ১১ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পরে আবদুর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া। ভাড়ায় চালিত গাড়িচালকের পরিচয়ে স্ত্রীসহ দুই মাস আগে তিনি কক্ষটি ভাড়া নেন। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আবদুর রহমান। অভিযান শেষে তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহারকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, পুরনো জেএমবির আস্তানা সন্দেহে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। গতকাল রবিবার ভোর পৌনে ৪টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

পুলিশের ঘিরে রাখা এলাকা থেকে দুপুর ২টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টার মধ্যে চারটি বিকট শব্দ শোনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বিশেষজ্ঞ দল। কক্ষ তল্লাশি করে অস্ত্র ও এসব বিস্ফোরক পাওয়া যায় বলে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান। দুপুরে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থল পৌঁছে তা নিষ্ক্রিয় করে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) সঙ্গে ব্যাকআপ টিম হিসেবে তাদের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

মাওনার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার আলহেরা হাসপাতালঘেঁষা সড়কের পাশে দোতলা বাড়িটির অবস্থান। বাড়ির মালিক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে তিনি ওজু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয়ে এক কর্মকর্তা তাঁকে ডাকেন। তাঁর সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির ভেতর গিয়ে নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ভাড়াটিয়া আবদুর রহমানকে আটক করেন। বাড়ির মালিক জানান, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে আবদুর রহমান ভাড়ায় চালিত গাড়িচালক বলে তাঁর কাছে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিন হাজার টাকা ভাড়ায় দুই মাস ধরে স্ত্রী শামসুন নাহারসহ তাঁর বাড়িতেই রয়েছেন আবদুর রহমান।

বাড়ির মালিক আরো জানান, তিনি জানতেন, স্থানীয় একটি রেন্ট এ কারের প্রাইভেট কার চালান আবদুর রহমান। তবে মাওনাসহ আশপাশের বিভিন্ন রেন্ট এ কারে খোঁজ নিয়ে আবদুর রহমান নামে কোনো গাড়িচালকের তথ্যের সত্যতা মেলেনি। রফিকুল ইসলাম আরো জানান, আবদুর রহমানকে আটকের ঘণ্টাখানেক পর তল্লাশি চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই কক্ষ থেকে তিনটি পিস্তল ও চারটি বোমা পাওয়ার কথা জানান তাঁকে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ একটি পিস্তল আমাকে দেখিয়েছে। তবে বোমাগুলো ভাড়াটিয়ার কক্ষে রাখা ছিল।’

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর বলেন, ‘আপনি কালিয়াকৈর সার্কেল এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামকে অনেকবার ফোন করা হলেও কেউ তা ধরেননি।



মন্তব্য