kalerkantho


দক্ষিণখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৭ জন আটক

মূল কারবারিরা লাপাত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাকু, ২৫০ পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কোর্টবাড়ী, বালুরমাঠ, মধুবাগ ও চোয়ারীরটেক এলাকায় একযোগে পাঁচটি টিমে বিভক্ত হয়ে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের আগেই মূল মাদক কারবারিরা সটকে পড়ে। জানান দিয়ে এ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল জানান, দক্ষিণখান থানাধীন পাঁচটি এলাকায় পাঁচটি টিমে বিভক্ত হয়ে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটককৃতদের মধ্যে সাত-আটজন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি রয়েছে। পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট থেকে পর্যাপ্ত ফোর্স পেলে উত্তরায় আবারও এমন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ফায়দাবাদ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া টুন্ডা লিটন ওরফে লিটন দক্ষিণখানের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বাসা তল্লাশি করে দুটি লম্বা কিরিচ (চাকু) জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

আজমেরী গার্মেন্টস এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযানকালে পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যদের দেখেই শীর্ষ মাদক কারবারিদের সবাই পালিয়ে যায়। যার ফলে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে না পুলিশ। কোর্টবাড়ী এলাকার রাসেল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, কোর্টবাড়ী রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বস্তিতে কিছু মাদক কারবারি দেদারছে কারবার করে আসছে। মাঝেমধ্যে চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও বাকিরা অভিযান দেখে আত্মগোপনে চলে গেছে। জানান দিয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিরা পালিয়েছে। মুন্সি মার্কেট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, দক্ষিণখান থানাধীন জামতলা রেলগেটের রুকু, মুক্তিযোদ্ধা রোডের ডিশ আতাউরের ছেলে মুন্না, নূর মসজিদ এলাকার তাহের মজুমদারের ছেলে সজিব ও তার ভাইসহ অন্তত ২০-২৫ জন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। মাঝেমধ্যে এদের মধ্যে কেউ কেউ ধরা পড়লেও তারা আবার জামিনে বের হয়ে একই ব্যবসা করে আসছে। দক্ষিণখান থানাধীন আনল এলাকায় প্রতিদিন সন্ধ্যায়ই বসে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের আসর। সেই সঙ্গে হলান ও পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অন্তত ১৫-১৬ জন ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসায়ী রয়েছে; যারা বলতে গেলে একরকম প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা করছে।



মন্তব্য