kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন
হাসান সরকারের অভিযোগ

কথা রাখেননি সিইসি

শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেছেন, ‘গত ২০ জুন প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ঘোষণা দিয়েছিলেন, খুলনার মতো নির্বাচন গাজীপুরে হবে না। সবার জন্য সমতল নির্বাচনী মাঠ নিশ্চিত করা হবে। কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না। কিন্তু সেই কথা রাখেননি তিনি।’ 

হাসান সরকার বলেন, ‘পুরো কমিশন নিয়ে সিইসি গাজীপুর ঘুরে যাওয়ার পরদিন থেকে পরোয়ানা ছাড়াই গণগ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। ডিবি পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে।’ গতকাল শনিবার পুবাইলের বিন্দান এলাকায় প্রচারণার ফাঁকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসান সরকার আরো বলেন, ‘গণগ্রেপ্তারের চেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে আচরণবিধির বিষয়ে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এমপি-মন্ত্রীরা এলাকায় এসে ভোট চাইতে পারেন না। এ বিধি ভেঙে আজ দুপুরে (গতকাল) গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের টঙ্গীর বাসায় তিনি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নির্বাচনী বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লাহ খান ব্রিফিংও করেছেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখতে চাই।’

হাসান সরকার বলেন, ‘ধানের শীষের জোয়ার ঠেকাতে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশ বাহিনী নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিজেই পুলিশের গাড়িতে চড়ে ভোট চাইছেন। পুলিশ দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সন্ধ্যা নামলেই আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। পুলিশ প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশি হয়রানি থামছে না। পুলিশ গত রাতেও আমাদের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।’

হাসান সরকার কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সৈয়দ মাওলানা মজিবুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “শুধু শনিবার নয়, এর আগে গত শুক্রবার সংসদ সদস্য রাসেল টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডের দলীয় সমর্থন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতি নিজেদের পাশাপাশি নৌকায় ভোট চাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।



মন্তব্য