kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

শেষ পর্যায়ে বিরামহীন প্রচার

আর এক দিন পরই ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর; টঙ্গী প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরে আর এক দিন পরই নির্বাচন। আগামী ২৬ জুন এই সিটি করপোরেশনে ভোট। আজ রবিবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনের প্রচার। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিতে এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তা উপেক্ষা করেই এলাকা চষে বেড়িয়েছেন মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থক নেতাকর্মীরা। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল ভোটারদের কাছে হাজির হয়েছেন নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ভোটারের মন গলাতে আবেগপ্রবণ ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন তাঁরা। বিজয়ী হলে কী কী করবেন সেই ফিরিস্তিও দিয়েছেন।

শেষ পর্যায়ের প্রচারে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতারাও। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই দেখা গেছে দুই দলের নেতাদের বিরামহীন প্রচার। তাঁদের সঙ্গে মাঠে নামেন সাংস্কৃতিক ও বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। তাঁরা নগরের বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাঁর যাঁর পক্ষের মেয়র পদপ্রার্থীর জন্য ভোট চান।

প্রচারে অংশ নেওয়া দুই দলের নেতারা নিজ নিজ দলের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

ক্লিন গ্রিন সিটি গড়ার অঙ্গীকার জাহাঙ্গীর আলমের : আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম গতকাল সকালে টঙ্গীর শ্রমিক অধ্যুষিত সাতাইশের খরতৈলে গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। তিনি টঙ্গীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতাইশ স্কুল প্রাঙ্গণ, সাতাইশ চৌরাস্তা, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেওড়া ফকির মার্কেট, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলগেট এলাকায় পথসভায় ভোট প্রার্থনা করেন। এসব পথসভা ও গণসংযোগে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম।

সাতাইশ স্কুল প্রাঙ্গণে পথসভায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিএনপি নানা অপপ্রচার করছে। আমরা গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছি। গত নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা গাজীপুর মহানগরীর মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। মেয়র মান্নান জেলে গেলেও তিন বছর দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু অযোগ্য ও ব্যর্থ বলে কোনো উন্নয়ন করেননি। আসন্ন নির্বাচনে আপনারা আমাকে ভোট দিন। আমরা সকলে মিলে গাজীপুর মহানগরীকে একটি ক্লিন এবং গ্রিন সিটিতে পরিণত করব।’

মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মী ও ভোটাররা পথসভায় যোগ দেয়। তিনি যে এলাকায়ই গেছেন সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছে। মিলগেট পথসভায় জাহাঙ্গীর বলেন, কোনো কাজই ছোট না। কর্মই হচ্ছে মানুষের আসল পরিচয়। তিনি নিজেও একজন কর্মচারী। সব শ্রেণির মানুষকে সমানভাবে সম্মান দেখাতে চান। সবাইকে নিয়ে একটি বাসযোগ্য শহর গড়তে চান। এ জন্য ২৬ জুন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোলেমান হায়দার, এম এম হেলাল উদ্দিন, কাজী মঞ্জুর, রেজাউল করিম প্রমুখ।

বিকেল ৩টায় টঙ্গী নওয়াগাঁওয়ে গাজীপুর-২ আসনের এমপি মো. জাহিদ আহসান রাসেলের বাসভবনে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। সেখানে বৈঠক করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার, সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক, মো. আতিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. ইকবাল হোসেন সবুজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ প্রমুখ।

বৈঠক শেষে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সকল নেতা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের প্রার্থী ও কর্মীরা ৫৭ ওয়ার্ডে ভোটারের দ্বারে দ্বারে বারবার যাচ্ছেন। তাই নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ জুন বিজয় সুনিশ্চিত করে আমরা ঘরে ফিরব।’

পুলিশি হয়রানির অভিযোগ হাসান উদ্দিন সরকারের : বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল প্রচার চালান পুবাইল এলাকায়। সকাল সাড়ে ৯টায় পুবাইলের হায়দরাবাদ থেকে প্রচার শুরু করেন তিনি। পরে মাজুখান বাজার, নন্দীবাড়ী, বিন্দান, পুবাইল বাজার, ভাদুন, ইছালী ও কলের বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন।

হায়দরাবাদে পথসভায় হাসান সরকার বলেন, ‘ধানের শীষের জোয়ার ঠেকাতে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিজেই পুলিশের গাড়িতে চড়ে ভোট চাইছেন। পুলিশ দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সন্ধ্যা নামলেই আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। পুলিশ প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসা-বাড়িতে হানা দিচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশি হয়রানি থামছে না। পুলিশ গত রাতেও তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।’

পুবাইলের পথসভায় হাসান সরকার বলেন, ‘আজও সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক টঙ্গীতে এমপির বাসায় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে নির্বাচনী বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংও করেছেন। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাদের ভোটারদের ওপর আস্থা নেই। নগরবাসীর প্রতি বিশ্বাস নেই। তাই তারা কারচুপির পাঁয়তারা করছে। নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছিল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। তারা কথা রাখেনি। ভোটারদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের অপতৎপরতা রোধ করতে হবে। সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

এসব পথসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রমুখ।



মন্তব্য