kalerkantho


এ দেশেই রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ চায় জাতিসংঘ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এ দেশেই তাদের শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ চায় জাতিসংঘ। আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং গতকাল শনিবার ঢাকায় এক কর্মশালায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই দুটি সুযোগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি তিনি এ সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছেন।

আদামা দিয়েং বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা প্রসারে ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে এসেছে তখন তাদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়ে বাংলাদেশিরা সহমর্মিতা দেখিয়েছে।’

এখন সেই মানবতার বার্তা এগিয়ে নিতে নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতারাও ভূমিকা রাখবেন বলে আদামা দিয়েং আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সম্প্রদায়কে উৎসাহিতকরণ : ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে কক্সবাজারে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সামাজিক সম্প্রীতি উৎসাহিতকরণে আন্ত বিশ্বাস উদ্যোগের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনের বার্তা অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘ ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব একে সমর্থন জানাতে ধর্মীয় নেতাদেরও উৎসাহিত করেন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় দাতা হলো এ দেশের জনগণ ও সরকার। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কক্সবাজারের স্থানীয় সম্প্রদায়ই প্রথম রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

১৯৭১ সালে লাখ লাখ বাংলাদেশির ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে মিয়া সেপ্পো বলেন, এই অভিজ্ঞতা অন্য দেশের শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশিদের উদার করে তুলেছে।

মিয়া সেপ্পো আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তুলনামূলক ভালো ভবিষ্যতের জন্য আশা সৃষ্টি করাকেই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় সম্প্রদায়ের জরুরি চাহিদাগুলো মেটানোর ওপরও জোর দেন।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনেও জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে সৃষ্টি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরুর পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।



মন্তব্য