kalerkantho


ঢাকায় জাতিসংঘের কর্মশালায় বক্তারা

টেকসই উন্নয়ন শান্তি ছাড়া হতে পারে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় গতকাল শুক্রবার একটি কর্মশালায় বক্তারা টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সম্প্রদায়কে উৎসাহিতকরণ : ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই কর্মশালার দুটি পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকাস্থ সেভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং গণহত্যা প্রতিরোধ ও সুরক্ষার দায়িত্ব বিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর যৌথভাবে গুলশানের একটি হোটেলে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নম্বর ১৬ অনুযায়ী টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে ধর্মীয় নেতা ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকার বিষয়ে কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া সহিংসতায় উসকানি থেকে নৃশংসতার মতো অপরাধ প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতা ও দায়িত্বশীলদের জন্য গণহত্যা প্রতিরোধ ও সুরক্ষার দায়িত্ববিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের প্রণয়ন করা কর্মপরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়েও কর্মশালায় জোর দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শান্তি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। সমাজে বিভিন্ন গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য শান্তি ও অংশগ্রহণমূলক নীতি অপরিহার্য। বক্তারা এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাঁর বক্তব্যে শান্তি ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সবার সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা ঢলের পর কক্সবাজারে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে চিন্তা, চেতনা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর সংস্কৃতিকে সরকার সব সময় উৎসাহিত করে।

জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল ও গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং বলেন, নৃশংস অপরাধ ও উসকানি প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বহু স্তরের প্রচেষ্টা তখনই সফল হয় যখন সমাজের দায়িত্বশীলরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করেন। বাংলাদেশে ধর্মীয় নেতা ও অন্য দায়িত্বশীলরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সমর্থনকেও তিনি আবশ্যিক বলে উল্লেখ করেন। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, প্রত্যেক মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার চর্চার সুযোগ থাকা উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, শান্তি ও উন্নয়ন হাতে হাত রেখে চলে। উন্নয়ন ছাড়া শান্তি আসে না। আবার শান্তি ছাড়াও উন্নয়ন হয় না।

 



মন্তব্য