kalerkantho


ঘটনার পাঁচ বছর পরও অভিযোগ গঠন হয়নি

মিল্কী হত্যা মামলা

আশরাফ-উল-আলম   

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঘটনার পাঁচ বছর পরও অভিযোগ গঠন হয়নি

ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলায় প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও আসামিদের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি। ফলে শুরু করা যায়নি বিচারকাজও। যদিও আড়াই বছরেরও বেশি সময় আগে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বলা হচ্ছে, বারবার আসামিরা সময় চাওয়ায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের উদাসীনতায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলা ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। গত ২০ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই দিনও শুনানি হয়নি। নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে আগামী ২৪ জুন। ওই তারিখেও অভিযোগ গঠন হবে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। প্রতি তারিখে কোনো না কোনো আসামি সময় আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

আইনজীবীরা জানান, এমন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার দ্রুত হওয়াটা কাম্য। আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করতেই পারে। ওই আবেদন মঞ্জুর করা না-করা আদালতের এখতিয়ার। তবে সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই। সে ক্ষেত্রে আসামি হাজির না থাকলে পলাতক দেখিয়েও বিচারকাজ শুরু করা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিল্কী হত্যার চেয়ে কম চাঞ্চল্যকর মামলাও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। কিন্তু এ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হচ্ছে না কেন, তা একটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মামলায় আসামি বেশি। মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পর একেক আসামি একেক ধার্য তারিখে সময়ের আবেদন জানানোয় ন্যায়বিচারের স্বার্থে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এ কারণে অভিযোগ গঠন হয়নি। তবে আগামী ধার্য তারিখে অভিযোগ গঠন করে বিচার যাতে শুরু হয়, রাষ্ট্রপক্ষ সে পদক্ষেপ নেবে।’

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশানের একটি বিপণিবিতানের সামনে মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই বিপণিবিতানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মিল্কীর একসময়ের সহযোগী ও যুবলীগ নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেকসহ ভাড়াটে খুনিরা তাঁকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় মিল্কীর ছোট ভাই রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। তাতে নাম উল্লেখ করে ১১ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত করে র‌্যাব। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক কাজেমুর রশিদ আদালতে ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু মূল আসামিদের নাম অভিযোগপত্রে না থাকায় বাদী আদালতে নারাজি আবেদন জানিয়ে অধিকতর তদন্ত চান। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে আসামির তালিকায় আরো সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার ১৮ আসামি হলেন সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, আমিনুল ইসলাম ওরফে হাবিব, সোহেল মাহমুদ ওরফে সোহেল ভূঁইয়া, চুন্নু মিয়া, আরিফ ওরফে আরিফ হোসেন, সাহিদুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, ফাহিমা ইসলাম লোপা, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু, তুহিন রহমান ফাহিম, সৈয়দ মুজতবা আলী ওরফে রুমী, মোহাম্মদ রাশেদ মাহমুদ ওরফে আলী হোসেন রাশেদ ওরফে মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম ওরফে নুরুজ্জামান, সুজন হাওলাদার, ডা. দেওয়ান মো. ফরিদউদ্দৌলা ওরফে পাপ্পু ও মামুন উর রশীদ।

ঢাকার আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের সময়ের আবেদনের কারণে মামলার বিচার শুরু হতে বিলম্ব করা হচ্ছে, এটা ন্যায়বিচার নয়। একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হলেই আরেকটি হত্যাকাণ্ড বন্ধ হতে পারে। কাজেই আইনের নিজস্ব গতিতে মামলা চালিয়ে বিচার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্ন করা উচিত।’

আরেক আইনজীবী সঞ্জীব চন্দ্র দাস বলেন, ‘জনবহুল এলাকায় খুনটি হয়েছিল। এমন একটি চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার দ্রুত না হলে সমাজের অপরাধ কমবে কিভাবে?’

 



মন্তব্য