kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ শেরপুর যশোরে দুজন নিহত

রাজধানীতে একজন গুলিবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, যশোর অফিস ও শেরপুর প্রতিনিধি    

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শেরপুর ও যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে শেরপুর সদর উপজেলার চুনিয়ার চর গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তার নাম আল আমিন ওরফে ফকির (৩০)। এ ঘটনায় র‌্যাবের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিরার রাত ৩টার দিকে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ এলাকায় শহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে একজন নিহত হয়।  দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শহিদুল নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

যশোর অভয়নগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়া বলেন, ‘শহিদুল তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা জানতে পারি প্রেমবাগ এলাকায় দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড গুলি ও ১২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।’

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে আল আমিন ওরফে ফকিরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব-১৪-এর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত আল আমিন ওরফে ফকিরের বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব-১৪ জামালপুর কম্পানি কমান্ডার রাজীব কুমার দে জানান, মঙ্গলবার রাতে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল মাদকবিরোধী অভিযানে শেরপুর সদরের চুনিয়ার চর এলাকায় গিয়েছিল। সে সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। অভিযানিক দলটি দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল। তবে সে সময় নিহত হওয়ার কোনো সংবাদ জানা যায়নি। গতকাল সকালে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধারের সংবাদ জানা গেছে।

নিহত আল আমিনের মা রোকেয়া বেগম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিহতের মামাতো ভাই সোহাগ ওরফে সোহাগ বাড়ি থেকে আল আমিনকে ডেকে নিয়ে যায়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশেই একটি হলুদক্ষেতে আল আমিনের মরদেহ পাওয়া যায়। রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো দোষ করে নাই। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’ ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সোহাগ ওরফে সোহাগ নামে এক ডাকাত হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে।

মোহাম্মদপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতের এ বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ ফালু নামের এক মাদক কারবারিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বছিলার গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ফালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়ে রাতে মাদক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ফালুকে নিয়ে পুলিশের টিম রাত দেড়টার দিকে বছিলা এলাকায় পৌঁছলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ফালুকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এ ঘটনায় ফালু ও চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর ফালুকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি ফালুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে ৩০৫ পিস ইয়াবা ও এক কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে।



মন্তব্য