kalerkantho


বাড্ডায় আওয়ামী লীগ নেতা হত্যাকাণ্ড

দুলালসহ চারজনকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী (৫০) হত্যাকাণ্ডে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে নিহতের পরিবার। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্ত্রী মোরশেদা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিহতের বাল্যকালের বন্ধু এবং ডিশ ব্যবসার অংশীদার ফজলুল হক দুলাল, তাঁর মেয়ের জামাই বিপ্লব, আব্দুর রহিম সৈকত, কামরুলসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাড্ডা থানার ওসি কাজি ওয়াজেদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, নিহতের পরিবার চারজনকে আসামি করে গতকাল মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। আর সিসিটিভির ফুটেজে হত্যায় অংশ নেওয়া যে দুজনকে দেখা গেছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

নিহতের ছেলে আবিদ হাসান বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি দুলাল ও তার মেয়ে জামাই বিপ্লব এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর সৈকত ও কামরুল হত্যার ইন্ধনদাতা। তাই মা বাদী হয়ে এদের আসামি করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যে ভবনে থাকি দুলাল সেই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকে। ঘটনার পর থেকে তাদের বাসায় দেখা গেলেও আজ (গতকাল) থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না।’ তাঁর অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা ও দুলালসহ মোট সাতজনে মিলে ওই এলাকায় ডিশ ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে ব্যবসা ভালোই চলছিল। সবাই সমান লাভ নিতেন। হঠাৎ দুলাল নিজে শতকরা ৬০ ভাগ লাভ নিতে শুরু করেন। বাকি ছয়জনকে ৪০ শতাংশ লাভ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে দুলালের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বছর দুয়েক আগে দুলাল লোক দিয়ে তাঁর বাবাকে হুমকি দেন। রমজানের মধ্যেও ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এটা (ডিশ ব্যবসার ভাগাভাগি) নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলা হবে।’ দুলাল ও তাঁর মেয়ের জামাই বিপ্লব লোক দিয়ে তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ আবিদ হাসানের। নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক দুলাল মুঠোফোনে বলেন, ‘আমিসহ সাতজন মিলে ১৮ বছর আগে ডিশ ব্যবসা শুরু করি। ফরহাদ কখনো ডিশ ব্যবসার পার্টনার ছিল না। চার বছর আগে এক বৈঠকে ফরহাদ ও আমার ভায়রাসহ চারজনে আমার কাছ থেকে ডিশ ব্যবসার লাভের শতকরা ৪০ ভাগ দাবি করে। চার বছর ধরে তাদের লাভের ৪০ শতাংশ টাকা দিয়ে আসছি।



মন্তব্য