kalerkantho


শিশু সুমাইয়া উদ্ধারে বেরিয়ে এলো থলের বেড়াল

অপহরণকারী গ্রেপ্তার

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে অপহরণের দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে ছয় মাসের শিশু সুমাইয়াকে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার পাকার মাথা এলাকার মরিয়মের বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী লাবনী আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহৃত সুমাইয়া গাইবান্ধার ফরিদপুরের সাদুল্লাপুর থানার ফরিদপুর এলাকার সাদেকুল ইসলামের মেয়ে। সুমাইয়া মা-বাবার সঙ্গে কালিয়াকৈরের উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

অপহরণকারী লাবনী আক্তার (২০) সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার মাছগ্রাম চর এলাকার রজব আলীর মেয়ে।

অপহৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, লাবনী আক্তার কয়েক বছর আগে থেকে মেয়েদের পোশাক ছেড়ে ছেলেদের পোশাক পরা শুরু করে। আর নিজের নাম পাল্টে লাবনী থেকে ইব্রাহিম করে। পুরুষের পোশাক পরায় এলাকার লোকজন তাকে ইব্রাহিম বলেই ডাকত। এরই মধ্যে তার পরিচয় হয় সাদুল্লাপুর থানার ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে। পরে সাদেকুলের সঙ্গে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ শুরু করে লাবনী ওরফে ইব্রাহিম। সাদেকুলের কাছে সে ইব্রাহিম হিসেবেই পরিচিত ছিল।

ছয় মাস আগে সাদেকুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী আদুরী খাতুন ছেলে আলিফ ও মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকায় আসে। পরে ওই এলাকার এখলাস উদ্দিনের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ নেন। ঈদ উপলক্ষে গত ১৫ জুন বিকেলে লাবনী ওরফে ইব্রাহিম কালিয়াকৈরের উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকায় সাদেকুলের বাসায় বেড়াতে আসে। ১৭ জুন সকালে সাদেকুল বাসার বাইরে যান। আর স্ত্রী আদুরী রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সুযোগে লাবনী সাদেকুলের শিশুকন্যা সুমাইয়াকে অপহরণ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই দিন বিকেলেই লাবনী তার মোবাইল ফোন থেকে সাদেকুলের সহকারী জুয়েলের মোবাইলে ফোন করে জানায় সুমাইয়া তার কাছে রয়েছে। তাকে পেতে হলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ  দিতে হবে।

বিষয়টি সুমাইয়ার পরিবার কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে জানায়। সুমাইয়ার মা আদুরী খাতুন লাবনীকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর গতকাল ভোররাতে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার পাকার মাথা এলাকায় লাবনীর বড় বোন মরিয়মের বাসা থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাবনীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে থানায় নিয়ে আসার পর তার শারীরিক অবস্থা দেখে সন্দেহ করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, সে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর তাকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে পরীক্ষা করলে সত্যতা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গতকাল লাবনীকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

লাবনী জানায়, ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সে অষ্টম। ১৩ বছর বয়স থেকে সে পুরুষের পোশাক পরা শুরু করে। বিয়ে না করে কিভাবে সে অন্তঃসত্ত্বা হলো জানতে চাইলে সে জানায়, তার গ্রামের আমিরুল নামের এক যুবকের সঙ্গে তার মেলামেশা রয়েছে। ওই মেলামেশা থেকেই সে গর্ভবতী হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের দুই দিন পর শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে অন্তঃসত্ত্বা।



মন্তব্য