kalerkantho


পার্লামেন্টে প্রস্তাব গৃহীত

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইইউর!

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা হত্যা ও নিপীড়ন বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। একই সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিজ নিজ ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছে। ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্ট সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে পার্লামেন্টের প্লেনারি সেশনে এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে তাদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারকে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনযজ্ঞ, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ধারাবাহিকভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া এবং রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ওপর যৌন সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বানের কথাও প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে যৌন নিপীড়ন, সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, যৌন সহিংসতা, মানবপাচার ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি ঠেকানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে এবং নৃশংসতার ব্যাপারে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগ ও ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতি কাজ করার আহ্বান ওই প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা হাত তুলে প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার আগে তাঁরা রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করার স্বার্থে জাতিসংঘের সঙ্গে ইইউর কাজ করার এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তাঁরা রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের হোতাদের বিচারের আওতায় আনার এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইইউর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির সদস্য ওয়াজিদ খান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। অথচ দুঃখের বিষয় হলো, এরই মধ্যে জাতিসংঘ প্রত্যাশিত তহবিলের মাত্র এক-পঞ্চমাংশের জোগান মিলেছে।

ওয়াজিদ খান আরো বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা বসে বসে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ দেখতে পারে না। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় অনুধাবন করাতে হবে।



মন্তব্য