kalerkantho


চট্টগ্রামের চার উপজেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে গেছে পাহাড়ি ঢলে। বন্যায় কাঁচাঘর, সড়ক ও সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে। টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে গত সোমবার থেকে এই চার উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে।

এদিকে আগের দিন ২৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম নগর। আর গতকাল ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিছু কিছু প্রকল্পের কাজও চলমান। কিন্তু দৃশ্যমান উন্নতি নেই কোথাও। নিস্তার নেই জলাবদ্ধতা থেকে। আগের দিন সোমবারের মতোই গতকালও জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগের সীমা ছিল না।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবারও আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।’

জেলায় বন্যা : পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘বন্যায় বেশ কিছু কাঁচাঘর, সড়ক ও সেতু কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাই তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির খবর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপন কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যায় উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। রমজান মাসে আকস্মিক বন্যার কারণে মানুষের সমস্যা বেড়েছে। তাই অনেক জনপ্রতিনিধি ও দানবীর ব্যক্তি খিচুড়ি রান্না করে রোজাদার মানুষের মধ্যে বণ্টন করছেন। উপজেলা প্রশাসনও একই কাজ করছে।’

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলার কেঁওচিয়া, ঢেমশা, আমিলাইষ, চরতিসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগে আছে। সেখানে গ্রামীণ সড়ক ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

পানিবন্দি হয়ে পড়া সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া গ্রামের কান্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার থেকেই বন্যা দেখা দিয়েছে গ্রামে। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। আমরা খাবার পানির সংকটে পড়েছি।’



মন্তব্য