kalerkantho


নির্বাচন কমিশন

ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল

নাজমুল হুদার দলকে ‘না’

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত কাজী ফারুক আহমেদের দল ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলটি  নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় শর্তাদি প্রতিপালনে ব্যর্থ হওয়ায় নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪০ থেকে কমে ৩৯টিতে দাঁড়াল।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সভায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে ইসিসচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের কাছে বারবার কমিশন প্রতিবেদন চেয়েছে। তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি নিবন্ধন শর্তও প্রতিপালন করছে না দলটি। তাই কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেছে।’

এদিকে নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন আবেদন না করায় নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিকে ‘না’ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দলটি গত বছর মার্চে ইসিতে নিবন্ধন আবেদন করে। কিন্তু কমিশন নিবন্ধন আবেদনের বিজ্ঞপ্তি দেয় অক্টোবরে। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি, গঠনতন্ত্র ও আনুষঙ্গিক দলিলাদিসহ নতুন করে আবেদন করতে ব্যর্থ হয় দলটি। কিন্তু আদালতের শরণাপন্ন হন নাজমুল হুদা।

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি বিদ্যমান নিবন্ধিত দলগুলোর কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় নিবন্ধন বাতিল হলো ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চালুর পর ২০০৯ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের পর ফ্রিডম পার্টি এবং দশম সংসদের আগে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলোর তালিকায় ২৯ নম্বরে ছিল ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন। ২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নবম জাতীয় সংসদে দলটি চাবি প্রতীকে ১১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র তিন হাজার ৫৪২ ভোট পায়। এরপর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ২০০৯ সালের ২৪ মে কাজী ফারুককে প্রশিকার চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। এরপর দলটির কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে।

নাজমুল হুদার দল নিবন্ধন পাবে না : এদিকে নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন আবেদন না করায় নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিকে ‘না’ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ইসিসচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদনটি আসায় কমিশন তা বাতিল করে দেয়। পরে তিনি (নাজমুল হুদা) আদালতে যান এবং মহামান্য হাইকোর্ট কমিশনকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। কমিশন আদেশটি বিবেচনায় নিয়ে দলটির কাগজপত্র দেখে। যেহেতু আবেদনটি নির্ধারিত সময়ে আসেনি এবং সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেয়নি; তার আবেদন যাচাই-বাছাই করে আরো দেখা গেছে, নিবন্ধন দেওয়ার মতো তথ্য সেখানে নেই; তাই কমিশন তৃণমূল বিএনপির নিবন্ধন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

ইসিসচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ‘এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৭৫টি নতুন দল আবেদন করে। সেখান থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৯টি দল বাতিল হয়। এরপর তথ্য সংশোধন করে দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। তাতে ৯টি দল ব্যর্থ হলে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। বাকি ৪৭টি দল থেকে দুটি দলের আবেদন আমলে নিয়েছে কমিশন। এখন মাঠপর্যায়ে এদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।’



মন্তব্য