kalerkantho


সংসদে রেলমন্ত্রী

পদ্মা সেতু রেল সংযোগে যুক্ত হবে ৫ জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত হওয়ায় গোটা জাতি উল্লসিত। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে পদ্মা হয়ে ফরিদপুর অংশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলা সংযোগ হবে।

গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মুজিবুল হক। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এসংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা।

সরকারি দলের সদস্য মুহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রেলওয়ের উন্নয়নে দ্রুতগতিতে কাজ করছে সরকার। রেলের যাত্রীও বাড়ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে ছয় কোটি ৪৯ লাখ যাত্রী রেলে যাতয়াত করেছিল, সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে সাত কোটি ৭৮ লাখ। তিনি আরো জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেলযাত্রী ছিল ছয় কোটি ৭৩ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাত কোটি আট লাখে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে রেলওয়ের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। রেলওয়ে একটি সেবামূলক সংস্থা। দেশের মানুষকে স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য পরিবহনসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, রেলওয়েকে ঢেলে সাজাতে সরকার ২০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪৯ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বেড়েছে।

মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকসম্পন্ন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি আরো জানান, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদন অনুযায়ী রেলপথ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 



মন্তব্য