kalerkantho


খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলা

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

আরেক মামলায় হাইকোর্টে আজ আবার শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন এবং রাজাকার-আলবদর বাহিনীর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননা করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে করা মামলায় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট গত ৩১ মে এক আদেশে ওই দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং তাঁর জামিনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজই এ আবেদন দাখিল করেছি।’

এদিকে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা এক মামলায় খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ চেয়ে করা আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি অব্যাহত রয়েছে। ওই আবেদনের ওপর আজ সোমবার আবার শুনানি হবে।

ঢাকার দুই মামলায় হাইকোর্টের আদেশের কপি প্রকাশিত হয়েছে গত ৬ জুন। সাত পৃষ্ঠার ওই আদেশে হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য পরোয়ানা জারি এবং তাঁর জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাইকোর্ট বলেন, ‘আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। যেখানে অন্য মামলায় কারাবন্দি থাকাবস্থায় এই মামলার আসামি নিজেই হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন এবং জামিন আবেদন করেছেন, সেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরসংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন নথিভুক্ত করে মারাত্মক ভুল করেছেন।’

কুমিল্লার মামলায় শুনানি চলছে : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় বাসে আগুন লেগে আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুটি মামলা (হত্যা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে) করা হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় গত ২৮ মে কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ করে দেন। জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশে আদালত বলেন, জামিন আবেদন করার অবকাশ নেই। এর পর আদালত আগামী ৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৫ জুন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। গতকাল শুনানির শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আদেশ চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বিরোধিতা করেন। এর পর আদালত আজ আবার শুনানির জন্য রেখেছেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেছেন যে সরকারের নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত হলো, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার। আজই এ আপিল করা হবে। কিন্তু আমরা আদালতকে বললাম, এখনো আপিল দায়ের হয়নি। আপিল থেকে কোনো আদেশ হয়নি। তাই আপনাদের আদেশ দিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত এই কারণে যে, অ্যাটর্নি জেনারেল যেহেতু আপিল বিভাগে যাবেন সেহেতু আজকে এটা মুলতবি করা হলো। এর অর্থ আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিচ্ছেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের যখন সম্মতি হবে যে খালেদা জিয়ার জামিন হবে, আমাদের সেই অপেক্ষায় থাকতে হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, আর আমরা আস্থা রাখতে পারছি না।’

 



মন্তব্য