kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের

পুলিশ কি জুঁই ফুলের গান গাইবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যুর ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা নয় বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণহানি নিয়ে কারো কারো সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘মাদক কারবারিরা অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করছে বলেই এনকাউন্টার হচ্ছে। একে বিচারবহির্ভূত হত্যা বলা যায় না। অস্ত্র আছে দুই পক্ষের হাতে, যাদের ধরতে যাচ্ছে, তারাও কিন্তু অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করছে। তাহলে পুলিশ কি ওখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? তারা এটার কাউন্টার করবে না?’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। জরুরি সহায়তা নম্বর ‘৯৯৯’-এর লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ওই সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মন্ত্রী তার জবাবে এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের উদ্দেশে বলেছেন যে মাদকসম্রাট তো সংসদেই আছে। তাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলান। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে কেন ধরা হচ্ছে না—জানতে চান সাংবাদিকরা। তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রমাণ লাগবে। প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না। একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ হলে তিনি যদি অপরাধী হন অবশ্যই তাঁর শাস্তি হবে। শুধু বদি নন, মাদকের সঙ্গে সরকারের আরো কোনো প্রভাবশালী যদি জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ, মাদক কারবারের সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের অবশ্যই এ অভিযানের আওতায় আনতে হবে।’

সরকার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে—বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মাদক কারবার করে এদের একটা সিন্ডিকেট আছে, এদের সন্ত্রাসী আছে, এদের সঙ্গে অস্ত্রধারী আছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায়, তখন অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করে, এনকাউন্টার হয়। এনকাউন্টারকে তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলা যাবে না। সবাই মিলে সোচ্চার হলে মাদকের বিস্তার এই ভয়ংকর অবস্থায় আসতে পারত না। আজকে পুলিশকে মোকাবেলা করতে হতো না। আজকে অভিযান কেন হচ্ছে? জনস্বার্থে করা হচ্ছে, একটা ভয়ংকর অবস্থার অবসানের জন্য। বাংলাদেশের মানুষ এই অভিযানে খুশি। সে জন্যই বিএনপির ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অভিযান নিয়ে বিএনপি এত চিৎকার করছে কেন? তাদেরও বহু লোক জড়িত, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’

বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের বিষয়ে সড়কমন্ত্রী জানান, গত ২৩ দিনের অভিযানে আইন ভঙ্গের কারণে মোট এক হাজার ২১৭টি মামলা হয়েছে। ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।



মন্তব্য