kalerkantho


টাউন হল মার্কেটে অভিযান, কয়েক দোকানকে জরিমানা

ব্যবসায়ীদের মন খারাপ, ক্রেতারা খুশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি এবং রাস্তা আটকে মালপত্র রাখার কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে আটটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার গতকাল বৃহস্পতিবার ওই অভিযান পরিচালনা করেন। ডিএনসিসির মালিকানাধীন মার্কেটটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযানের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীরা। তবে খুশি হয়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

ওই মার্কেটে আলু কিনতে যাওয়া হাসিনা জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার দিনে সব কিছুর দামই তো বাড়তি। কিন্তু অভিযানের সময় সব কিছুর দাম কমে যায়। যে আলু ২২-২৫ টাকায় নিয়মিত বিক্রি হয়, সেটা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২০ টাকা হয়ে গেল। ৮০ টাকার বেগুন হয়ে যাচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। অভিযান তো নিয়মিতই হওয়া উচিত।’

অভিযান চলাকালে একটি মাংসের দোকানের সামনে এক ক্রেতা ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, এই দোকানদার তিন-চার দিন আগে গরুর মাংস ৪৮০ টাকায় বিক্রি করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতা চিৎকার করে বলেন, ‘স্যার, আমার নির্ধারিত ৪৫০ টাকা রেটের কাগজ টানানো রয়েছে। আর আমি ওনার কাছে দামই চাইনি। নির্ধারিত দামেই বিক্রি করেছি।’ ক্রেতা তখন স্বীকার করলেন, তাঁর কাছে আজ দাম চাওয়া হয়নি। পরে ম্যাজিস্ট্রেট সেখান থেকে চলে যান।

টাউন হল মার্কেটের আশপাশে সংবাদমাধ্যমের গাড়ি দেখে এবং তিন দিন আগের অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে মার্কেটের মুদি দোকানিরা আগেই টের পেয়ে যায়। ফলে অভিযানের সময় প্রতিটি দোকানেই দামের তালিকা টানানো পাওয়া যায়। এর মধ্যেই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে ধরা খেয়েছে কয়েকজন। আলো জেনারেল স্টোর এবং শাহাদাত জেনারেল স্টোরে টানানো মূল্যতালিকায়ই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি উল্লেখ ছিল। ফলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিটি দোকানকে ১০ হাজার টাকা জারিমানা করেন।

এরপর মার্কেটের পাশের রাস্তায় বসা সবজির দোকানগুলোতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোনো বিক্রেতার দেখা পাননি। অনেক দোকানি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গেই ঘুরতে থাকে। তাদের কেউ একজন বলে, ‘স্যার, নামাজে গেছে।’ কেউ বলে, ‘এই সময় ওর দোকান বন্ধ থাকে।’ তার পরও দুজনকে পাওয়া যায়, যাদের সবজির দোকানে মূল্যতালিকা টানানো ছিল না। সে জন্য তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ওই সময় ভিড়ের একটু পাশে দাঁড়িয়ে একজন অন্যজনকে বলেন, ‘হায় হায় রে, আমরা ব্যবসায়ীরা কই যাই! সবজির দোকানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করলে হের কয় মাস লাগব এই টাকা তুলতে তার কোনো হিসাব আছে? আর ব্যবসা করা যাইব না।’

পরে আবার মার্কেটে ঢুকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার অভিযোগে রাইসা ভ্যারাইটি স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া ফুটপাতে মালপত্র রাখায় ইয়াসিন ভ্যারাইটি স্টোরকে ১০ হাজার টাকা এবং সিঁড়ি বানিয়ে ফুটপাত দখল করায় আল-সুরেশ্বরী ট্রেডার্সকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তদারকি করতেই এই অভিযান। যারা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ দোকানেই মূল্যতালিকা রয়েছে এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ওই সময় পাশে দাঁড়িয়ে এক ব্যবসায়ী আরেকজনকে বলেন, ‘আমার সব কর্মচারীকে ছুটি দিয়েছি। বলছি, তোরা ঘুইরা আয়। সবাই সংসদের সামনে ঘুরতে গেছে। দোকান বন্ধ কইরা দিছি। না কইরা কী করুম! ১০ হাজার টাকা কামাইতে যে কষ্ট, সেটা বাইরে থাইক্যা কেউ বুঝব না।’

সবশেষে ওই মার্কেটের পাশে স্বপ্নের একটি আউটলেটে অভিযান চালানো হয়। সে সময় বাইরে শতাধিক লোক দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে। কেউ কেউ চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘চার লাখ করেন, পাঁচ লাখ করেন।’ তবে সেখানে কোনো সমস্যা না পাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট চলে যান।

এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চকবাজারে অভিযান চালিয়ে রস নামের মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা, আলাউদ্দিন সুইটসকে ৫০ হাজার টাকা, অরিজিনাল বোম্বে সুইটসকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আনন্দ কনফেকশনারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।



মন্তব্য