kalerkantho


সাভারে ‘সংহতির’ সমাবেশ

২০ রোজার আগে পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দাবি

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া দাবিতে সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



২০ রোজার আগে ঈদ উৎসব ভাতা (বোনাস) প্রদান এবং ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মাসিক মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সাভারে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়। রানা প্লাজা ধসের ৬১ মাস উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে প্যাপিলন নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কে তিন ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে তারা এ বিক্ষোভ করে।

সভার : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবনের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ঈদুল ফিতরের অন্তত ১০ দিন বা ২০ রোজার আগে আগামী ৬ জুনের মধ্যে দেশের সব কারখানায় কমপক্ষে মূল বেতনের (বেসিকের) সমান বোনাস ও জুন মাসের অর্ধেক বেতন প্রদান করতে হবে। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার সভাপ্রধান আলম মাতব্বরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখ্তার, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মুসা কলিমুল্লাহ, সাভার শাখার সংগঠক সেলিনা আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুনসহ স্থানীয় অন্য নেতারা।

মানববন্ধনে নেতারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস চলছে। ঈদের ছুটির আগে খাটিয়ে নেওয়ার জন্য ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটিও জুটছে না জেনারেল বা বাধ্যতামূলক ওভারটাইমের চাপে। এত চাপ সহ্য করে শ্রমিকরা কাজ করছে; কিন্তু এ বছর ঈদের আগে কতগুলো কারখানার শ্রমিকদের রাজপথে নামতে হবে, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না।

বক্তারা আরো বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একটি বৈঠক করার পরই ঝুলে গেছে এই বোর্ডের কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত মালিক বা শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাবই উপস্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার ভেতর দিয়ে সরকার তার নির্বাচনী ফায়দা লোটার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বক্তারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সচল করে ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের ৬১তম মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু ধারাবাহিক আন্দোলনের পরও আজ পর্যন্ত এই ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়াই শুরু হলো না। নেতারা রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জ : মহানগরীর সিদ্ধিরগঞ্জে প্যাপিলন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা গতকাল সকাল ৯টা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও থানা পুলিশ এসেও সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পারেনি। পরে শ্রমিক নেতারা দুপুর ১২টায় এসে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ও বেতন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে সক্ষম হন। পরে ১২টার দিকে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার এমএস টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিলন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ইউনিট-২ ও একই স্থানের ইকবাল গ্রুপে অবস্থিত প্যাপিলনের ইউনিট-১-এর মোট ৪৮০ জন শ্রমিক কাজ করছে। তাদের এপ্রিল ২০১৮ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মঙ্গলবার ওই কারখানার ইউনিট-১-এর ২৮০ জন শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু গতকাল শ্রমিকরা সকালে কারখানার সামনে এসে দেখতে পায় মালিকপক্ষ কারখানাটিতে তালা লাগিয়ে চলে গেছে। ফলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সকাল ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জ পুল বাসস্ট্যান্ডে এসে অবরোধ সৃষ্টি করে। অবরোধে ইউনিট-২-এর শ্রমিকদের সঙ্গে ইউনিট-১-এর শ্রমিকরাও যোগ দেয়। পরে দুপুর ১২টায় শ্রমিক নেতারা এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে ও বেতন পাইয়ে আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য প্যাপিলন নিট কম্পেজিট লিমিটেডের পরিচালক ফারুক হোসেনের (মার্কেটিং ও অপারেশন) মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।



মন্তব্য