kalerkantho


হলমার্ক কেলেংকারির মামলায়

সাক্ষ্য নিচ্ছেন বিচারক স্বামী-স্ত্রী মশগুল গল্পে

এম এ জলিল উজ্জ্বল   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



সাক্ষ্য নিচ্ছেন বিচারক স্বামী-স্ত্রী মশগুল গল্পে

হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন ঢাকার বিশেষ জজ প্রথম আদালতের বিচারক। হলফনামা পড়ে সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবুল বাশার সাক্ষীর ডকে দাঁড়িয়ে জবানবন্দি দিচ্ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী তাঁকে সহায়তা করছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করার বিষয়ে যখন সবাই ব্যস্ত তখন দেখা গেল মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও তাঁর স্বামী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর ইসলাম বসে আছেন একদম পেছনের সারির চেয়ারে। ঘনিষ্ঠভাবে বসে তাঁরা নিজেদের মধ্যে গল্পে মশগুল। গতকাল বুধবার এমন দৃশ্যই দেখা গেল ওই এজলাসে।

সরেজমিনে আরো দেখা গেল, হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছোট ভাই কম্পানির মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ পায়চারি করছেন। সাংবাদিক দেখে সোজা পেছন থেকে চলে এলেন আইনজীবীদের ডায়াসের সামনে। জানতে চাইতেই বললেন, তিনিই জেরা করবেন মামলার সাক্ষীকে। তাই এখানে এগিয়ে আসা। অথচ তাঁর হাতে কোনো হাতকড়া নেই। একপর্যায়ে হাত দুটো এমনভাবে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন যেন দুই হাত উল্টো করে হাতকড়া পরানো। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তুষার আহমেদের পক্ষে মামলা লড়ছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য। একজন আইনজীবী এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘ভাই দেখেন, আমার মক্কেল ভিকটিমাইজ। শুধু একটা ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্টে সাইন করার কারণে ফেঁসে গেছেন।’ এই আসামি জামিনে আছেন বলেও তিনি জানালেন।

আদালতের পেশকার রবিউলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। তাঁরা নাকি আদালতের আদেশ নিয়েছেন। আপনি (এই প্রতিবেদককে) এসে নথি দেখে যান।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই কী করবেন, বাই রোটেশনে এগারো মামলায় রবিবার আর বুধবার আদালতে আসতে হয়। এমনিতেই তো তাঁরা অনেক দিন ধরে জেলখানায়। স্বামী-স্ত্রী তো একটু কথা বলবেই। আর এটা তো তাঁদের আইনজীবী আদালতের পারমিশন নেওয়ার পর কথা বলেন। অনুরোধ করলেন, থাক ভাই এগুলো লিখেন না।’

 


মন্তব্য