kalerkantho


মিঠাপুকুরে অভিযানে অবরুদ্ধ দুই পুলিশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



মিঠাপুকুরে অভিযানে অবরুদ্ধ দুই পুলিশ

মিঠাপুকুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক পান ব্যবসায়ীকে আটকের সময় মঙ্গলবার রাতে পুলিশের দুজন সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। জনতার হাতে হেনস্তার পর তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনাটি উপজেলার হুলাশুগঞ্জ বাজারের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাংনী ইউনিয়নের হুলাশুগঞ্জ বাজারে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপস্থিত হন মিঠাপুকুর থানার এএসআই মশিউর রহমান ও কনস্টেবল মজনু মিয়া। তাঁরা পান ব্যবসায়ী আবু তাহেরের দোকানে ঢুকে গাঁজা কারবারি আখ্যা দিয়ে আটকের চেষ্টা করেন। ঘটনা জেনে বাজারে উপস্থিত লোকজন প্রতিবাদ জানায়। তাহের মাদক কারবারে জড়িত নন বলে তারা পুলিশকে জানায়। দুই পুলিশ এসব কথা না শুনে হুমকি দিলে জনতা তাঁদের ধাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য একটি গুদাম ঘরে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ও মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজাম্মেল হক সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে জনতা। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলে দুই পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ‘পুলিশ একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মাদক কারবারি সাজিয়ে আটকের চেষ্টা করেছিল। এতেই জনগণ ক্ষিপ্ত হয়।’

ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘আমি অধূমপায়ী। জীবনে কখনো মাদক স্পর্শ করিনি, ব্যবসা করা তো দূরের কথা। অথচ আমাকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেছিল পুলিশ।’

অভিযুক্ত এএসআই মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁকে আটকের চেষ্টা করেছি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।’

মিঠাপুকুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিম উদ্দিন বলেন, এরই মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযুক্ত এএসআই মশিউর রহমান আমাকে না জানিয়ে হুলাশুগঞ্জ বাজারে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে যায়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এদিকে পিরোজপুর থেকে আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মঠবাড়িয়ায় একটি অভিযান পরিচালনার সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পৌর শহরের সবুজনগর এলাকায় ইয়াবাসহ নয়ন মৃধা (২৩) নামে এক মাদক কারবারিকে আটকের সময় এই ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, এএসআই আবুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সবুজনগর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে মাদক কারবারি নয়ন মৃধা ও তার সহযোগী মাছুম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হন আবুল হাসান ও কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা। ডান পায়ে গুরুতর জখম গোলাম মোস্তফাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, ১৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃত নয়ন মৃধাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা চলছে।

 



মন্তব্য