kalerkantho


খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি অব্যাহত

♦ আজ আবার শুনানি
♦ আরো দুই মামলায় আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



হত্যার অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুনানি অসমাপ্ত থাকায় অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনে আদালত আজ বুধবার ২টায় আবার পরবর্তী শুনানির সময় ধার্য করেছেন।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা আরো দুটি মামলায় জামিন চেয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে। এ দুটি আবেদনের ওপর আগামী ২৮ মে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুই মামলায় জামিন শুনানি শুরু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আইকন পরিবহনের একটি বাসে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পেট্রলবোমা মেরে আট যাত্রীকে হত্যা ও ২০ জনকে আহত করার অভিযোগে পরদিন দায়ের করা মামলায় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইলে করা মানহানির মামলায় গতকাল হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানির শুরুতে আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীর কাছে জানতে চান, কুমিল্লার আদালতে যে জামিন আবেদন করা হয়েছে, তার নিষ্পত্তি না করেই হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা যায় কি না। জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন অন্য একটি মামলায় আদালতের দেওয়া আদেশ নজির হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের যে ক্ষমতা হাইকোর্টেরও সেই একই ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার আদালত জামিন শুনানির জন্য লম্বা তারিখ দিয়েছেন। আমরা শর্ট তারিখের জন্য আবেদন করেছি। ওই আদালত কোনো আদেশ দেননি। এ কারণে আমরা হাইকোর্টে এসেছি।’ তিনি বলেন, মামলার এফআইআরে খালেদা জিয়া আসামি নন। পরে অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়াকে ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, এ মামলায় প্রথম অভিযোগপত্রে ৭৮ জনকে আসামি করা হয়। পরে একজনকে বাদ দিয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে ধারা পরিবর্তন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ মামলায় যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের প্রায় সবাই জামিনে আছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীর শুনানির শেষ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমরা রুল দিচ্ছি।’ জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, ‘আমরা রুল চাচ্ছি না। জামিন চাচ্ছি।’

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি শুনানি করতে চাই। আমাকে সময় দেওয়া হোক।’ তখন আদালত জামিন শুনানি বুধবার ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১২ এপ্রিল এ মামলায় সংশ্লিষ্ট আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। কিন্তু আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর বা খারিজ না করে বারবার আদেশের দিন নির্ধারণ করতে থাকেন। সর্বশেষ আগামী ৫ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।



মন্তব্য