kalerkantho


মাদকবিরোধী অভিযান

ক্রসফায়ারের সমালোচনায় সুলতানা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ঘটনার সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিসহ সন্ত্রাসীদের ধরে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি ‘জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রের বেআইনি ব্যবহার বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ সমালোচনা করেন মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল। সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাকটিভিজম, নেটওয়ার্ক অব নন-মেইনস্ট্রিম মারজিনালাইজড কমিউনিটিস, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যা-রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং কাপেং ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদিকে এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মিট দ্য প্রেসে সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে ক্রমাগত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে, এটা বড়ই উদ্বেগের বিষয়। মাদক কারবারিসহ যেকোনো সন্ত্রাসীকে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেকোনো অন্যায় অপরাধকারীকে বিচারের আওতায় এনে তার শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ সেটা হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটাই যদি হবে তাহলে দেশে আইন-আদালত কেন। জনগণ এভাবে হত্যাকাণ্ড দেখতে চায় না। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রকে এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা বেআইনি। অপরাধীদের আটক করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’

সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাকটিভিজমের সমন্বয়কারী লিসা হায়াৎ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সর্বজনীন পুনর্বিক্ষণ পদ্ধতি বা ইউনিভার্সেল পেরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর) ফোরামের আওতায় গত ১৪ মে জেনেভায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ১০৫টি দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ২৫২টি সুপারিশ করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসাও করে তারা। তবে এসবের তুলনায় সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো ছিল ব্যাপক।’

আসকের উদ্বেগ

ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান বেশ ভালো। তবে তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো যাতে বিদ্যমান আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার ব্যত্যয় না ঘটায়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। আসক বলেছে, গত ছয় দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৮ জন এবং এ বছরের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ১০২ জন নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে, যার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরু থেকে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানে গত ১৫ মে পর্যন্ত মাদক কারবারে জড়িত ও মাদকসেবন করছে মর্মে দুই হাজার ৩০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।”



মন্তব্য