kalerkantho


ইউএসএআইডি প্রশাসক

মিয়ানমারে গণতন্ত্রের স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হতেই হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়নের পথে রোহিঙ্গা সংকটকে বড় বাধা হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) প্রশাসক মার্ক গ্রিন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হতেই হবে। পাঁচ দিনের মিয়ানমার সফর শেষে গতকাল সোমবার ইয়াঙ্গুন থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মিয়ানমার টাইমসের অনলাইনে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সক্ষমতা সৃষ্টিতে মিয়ানমারে ইউএসএআইডির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মার্ক গ্রিন। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে আমরা এখানে যা করতে চাই তা বাস্তবায়নে চলমান সংকট একটি বড় বাধা। তবে আমরা এই দেশের (মিয়ানমার) বন্ধু। এই দেশকে স্বনির্ভর হতে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। বিশেষ করে, আমরা এই দেশের জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি।’

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে যান মার্ক গ্রিন। মিয়ানমার সফরে তিনি স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনসহ মিয়ানমারের সবার অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

ইউএসএআইডি প্রশাসক গত শনিবার ইয়াঙ্গুনে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়গুলো দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে সুস্পষ্ট বাধা। বন্ধু হিসেবে এই সংকট সমাধানে আমরা সহযোগিতা করতে চাই।’

মিয়ানমারের গণতন্ত্রকে নবীন হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ থাকার ওপর জোর দিয়েছেন মার্ক গ্রিন। তিনি বলেন, ‘একটি নির্বাচন হওয়া মানেই গণতন্ত্র নয়। এটি গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন আমরা গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জগুলো দেখছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে সংকট, কাচিন ও উত্তর শানে চলমান সংঘাত আমাদের বার্তা দেয় যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও সমান সুযোগের প্রতি অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।’


মন্তব্য