kalerkantho


যাত্রাবাড়ীতে টানা পার্টি তৎপর

পুলিশকে ১২ মাদক কারবারির তালিকা দিলেও গ্রেপ্তার নেই

ওমর ফারুক   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



স্কুল শিক্ষিকা সাদিয়া রহমান তাঁর মা ফেরদৌসি বেগমকে নিয়ে রিকশায় জুরাইন থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় হয়ে কাজলা যাচ্ছিলেন। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে যাওয়ার পর  ‘ধীরে’ চলতে থাকে রিকশা। মোড় পার হওয়ার সময় সাদিয়া রহমানের কানের দুল টান দিয়ে নিয়ে যায় এক যুবক। পাশেই সড়কে তখন যানজট নিয়ন্ত্রণ করছিল পুলিশ। মা ও মেয়ে ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করতে থাকেন। দৃশ্যটি রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা দেখলেও কেউ এগিয়ে যায়নি ছিনতাইকারীকে ধরতে। পুলিশের সামনে দিয়েই টানা পার্টির ওই যুবক দৌড়ে চলে যায়। পুলিশও তাকে ধরার আগ্রহ দেখায়নি।

পরে সাদিয়া রহমান রিকশা থেকে নেমে পুলিশের কাছে যান। পুলিশ তাঁকে পরামর্শ দেয়, থানায় গিয়ে মামলা করতে। সামনে দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ছিনতাইকারীকে না ধরে থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ফলে থানায় না গিয়ে চলে যান গন্তব্যে। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।

শুধু এ ঘটনাটিই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় প্রতিদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে যাত্রাবাড়ী এলাকায়। গতকাল শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ভয়ংকর সব তথ্য পাওয়া গেছে। টানা পার্টির পাশাপাশি মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের উৎপাতে অতিষ্ঠ ওই এলাকার বাসিন্দারা। মাদক কারবারিদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। মাসখানেক আগে যাত্রাবাড়ী এলাকার চিহ্নিত ১২ জন মাদক কারবারির তালিকা দেওয়া হয়েছিল পুলিশের হাতে। এক মাস পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন জানায়, যাত্রাবাড়ী এলাকার কাজলা, উত্তর যাত্রাবাড়ী, মাদরাসাগলি, কুতুবখালী, মিরহাজীরবাগ, শহীদ ফারুক সড়কসহ যাত্রাবাড়ী এলাকার প্রায় প্রতিটি গলিতে মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। মাঝে মাঝে পুলিশ এদের গ্রেপ্তার করলেও কিছুদিন পরই তারা ছাড়া পেয়ে যায়। ভয়ে এলাকার লোকজন কিছু বলে না। জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে এলাকাবাসী চুরি-ছিনতাই নিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, যাত্রাবাড়ী এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা দেদার ইয়াবার বাণিজ্য করছে। মাঝে মাঝে পুলিশ লোক-দেখানো অভিযান চালায়। এলাকার ওয়ার্ড কমিশনারের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি আরো জানান, মাদকসেবীদের অবস্থা এমন যে এরা বাড়ির গেটে এসে বসে। প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন করলেও কিছু বলা যায় না। বললে যদি কিছু করে বসে, এই ভয়ে কেউ কিছু বলে না। এই মাদকসেবীদের অনেকে ছিনতাইকারী। ফলে এরা যাতে বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বাড়ির গেটে তালা মেরে রাখা হয়। দিন দিন এদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে।

৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আবুল কালাম অনু কালের কণ্ঠের কাছে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অথচ মাস দেড়েক আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও  ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এখানে মাদক নির্মূলের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এরপর এই এলাকার চিহ্নিত ১২ জন মাদক কারবারির তালিকা দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো একজনকেও গ্রেপ্তার করেতে পারেনি পুলিশ। তিনি আরো জানান, যাত্রাবাড়ী এলাকায় তারা ১৭টি মাদক স্পট চিহ্নিত করেছেন। সে তালিকাও দেওয়া হয়েছে পুলিশের কাছে। স্পটগুলোয় মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। মাদকসেবী ও কারবারিরা দাপট নিয়েই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা পাওয়ার পর ১৬টা পথসভা করেছি। মাদক রোধে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’


মন্তব্য