kalerkantho


সীতাকুণ্ডে চালককে প্রহারের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের তাণ্ডব

হামলায় অকেজো ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



সীতাকুণ্ডের বড়দারোগারহাটে ‘এক্সেল কন্ট্রোল লোডস্টেশন’ ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা। এর আগে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লোকজন একজন ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেছিল। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে এই সহিংসতার জেরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, সওজসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলায় ওজনকেন্দ্রটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, ‘স্কেলের লোকজন সব সময় গাড়িচালকদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করেন। আমরা শুনেছি তাঁরা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। চালক-হেলপারদের মারধরও করেন। এসব কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি পণ্যবাহী ট্রাক সড়ক ও জনপথ (সওজ) নিয়ন্ত্রিত সীতাকুণ্ডের বড়দারোগারহাট এক্সেল কন্ট্রোল লোডস্টেশনে (ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) আসে। কেন্দ্রের কর্মীরা চালক হুমায়ুন কবিরকে গাড়ি ওজন করার জন্য স্কেলে তুলতে বললে চালক বলেন, তাঁর গাড়িতে পণ্য কমই আছে, ওজন করাতে হবে না। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রের কর্মীরা চালক হুমায়ুন ও তাঁর সহকারী সজীবকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এরপ চালক গাড়িটি মহাসড়কে আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক ব্যারিকেড দেন এবং সড়কে শুয়ে পড়েন। এতে মহাসড়কের গাড়িচালকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আরো অনেক চালকও ঢাকামুখী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেন।

এদিকে ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চালক হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠালে তিনি মারা গেছেন বলে চালকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তখন গাড়িচালকরা ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলার চেষ্টা চালায়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রে নিযুক্ত আনসার সদস্যরা সক্রিয় হয়। এক পর্যায়ে শত শত পরিবহন শ্রমিক একত্রিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ওজনকেন্দ্রের পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাশের কার্যালয়, আনসার কক্ষ, কম্পিউটার, ওজন ডিসপ্লে, সিসি ক্যামেরাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম, সহকারী কমিশনার (এসি) ভূমি মো. কামরুজ্জামান, সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান, ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক, বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আহসান হাবীব, কুমিরা হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মাসুদুল আলম, ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিআই রফিক আহমেদ মজুমদার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যারিকেড উঠে গেলে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুটি কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। সামনের ওজন নিয়ন্ত্রক ডিসপ্লে, সিসি ক্যামেরা, ভেতরের সব কম্পিউটার, যন্ত্রপাতিসহ বাইরের যাবতীয় দরজা-জানালার কাচসহ আসবাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১টায়ও পণ্যবাহী গাড়িচালক ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিল।

ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. রেজাউল হোসেন বলেন, ‘এই স্কেলে গাড়িচালকদের অযথা হয়রানি করা হয়। জোর করে বেশি ওজন আছে বলে টাকা নেওয়া হয়। না দিলে চালক-হেলপারদের মারধর করা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটক রাখাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। একই ঘটনা আবার ঘটায় চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।’

জানা যায়, কেন্দ্রটি বর্তমানে পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রেগনাম রিসোর্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. কামরুল হাসান ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তানভীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চালক যে সুস্থ আছেন তা প্রমাণের জন্য আমরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে এখানে আবার নিয়েও আসি। কিন্তু তাঁর মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে কয়েক শ পরিবহন শ্রমিক তাণ্ডব চালিয়েছে’। প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান তুষার বলেন, ‘এখন দুটি স্কেলই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। এসব যন্ত্রপাতি পুনঃস্থাপন করা অনেক সময়ের ব্যাপার। তত দিন সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।’

 


মন্তব্য