kalerkantho


সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩৭৮ শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব

শরীফুল আলম সুমন   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



দেশের ৩৪৩ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর পাশাপাশি বেশিসংখ্যক শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে এক হাজার ৩৭৮ শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই করতে প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ৫২৯ জন সহকারী শিক্ষকের নামের তালিকাও চূড়ান্ত করেছে। পদোন্নতির সুপারিশের জন্য এই তালিকা শিগগিরই পিএসসিতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।   

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩৪৩টি সরকারি স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ে ১০ হাজার ৩৫০টি সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে। সেখানে কর্মরত রয়েছেন আট হাজার ৮৭ শিক্ষক। আর চলতি বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন আরো ৭৫ জন শিক্ষক। এ ছাড়া ৩৫ ও ৩৬তম বিসিএস থেকে মোট ৯৬০ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর বাইরে শূন্য রয়েছে এক হাজার ৩৭৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ।

পিএসসিতে পাঠানো প্রস্তাবপত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ বাংলায়। এ বিষয়ে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৬৫ জন শিক্ষক। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শূন্যপদ রয়েছে গণিতে, ২০৫টি পদ। এ ছাড়া ইংরেজি বিষয়ে ১০৬ জন, সামাজিক বিজ্ঞানে ৮৩ জন, ভৌতবিজ্ঞানে ১০ জন, জীববিজ্ঞানে ১১৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় আটজন, ভূগোলে ৫৪ জন, চারু ও কারুকলায় ৯২ জন, শারীরিক শিক্ষায় ৯৩ জন, ইসলাম ধর্মে ১৭২ জন এবং কৃষিশিক্ষায় ৭২ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।  

জানা যায়, দেশের প্রতিটি সরকারি স্কুলেই এখন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা সব কটি ক্লাস নিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘদিন নিয়োগ বিধিমালা ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সেই সমস্যা দূর হলে সহকারী শিক্ষকের দ্বিতীয় শ্রেণির এই পদে ৩৪তম বিসিএস থেকে আগ্রহীদের সুপারিশ করা শুরু করে পিএসসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩৭তম বিসিএসের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তাঁরা মৌখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন। আর ৩৮তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণরা লিখিত পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন। ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস থেকেই এক হাজার ৩৭৮ প্রার্থীকে সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে চায় পিএসসি। এ জন্যই পিএসসির তাগিদের পরিপ্রেক্ষিতে শূন্যপদের এই তালিকা তৈরি করেছে মাউশি অধিদপ্তর।

এ ছাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত মামলা থাকায় এত দিন পদোন্নতিও দেওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সেই জটিলতাও দূর হয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয় ৫২৯ সহকারী শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির জন্য তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই তালিকা শিগগিরই পিএসসিতে পাঠানো হবে।

এসব ব্যাপারে মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেটা আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। সরকারি স্কুলে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় অনেক স্কুলেই সমস্যা হচ্ছে বলে প্রধান শিক্ষকরা আমাদের জানাচ্ছেন। পিএসসি যত দ্রুত সুপারিশ পাঠাবে তত দ্রুতই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির কাজও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।’



মন্তব্য