kalerkantho


প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ

মামলা তদন্তাধীন দুদকে অথচ পুলিশ আসামির অব্যাহতি চায়

আশরাফ-উল-আলম   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



আইএফআইসি ব্যাংকের ১৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যদিকে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ পৃথক তদন্ত শেষে আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

গত ৩০ জানুয়ারি ধানমণ্ডি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার সিকদার এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার একমাত্র আসামি নাজমুল হাসানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে দুদক।

জানা যায়, আইএফআইসি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শওকত আলী বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ২৫ জুন ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি (মামলা নম্বর ২২, তারিখ ২৫.০৬.১৪) করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার দৌলতপুর গ্রামের মো. শওকত আলী আইএফআইসি ব্যাংক মৌলভীবাজার জেলা শাখার একজন গ্রাহক। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ২০১১ সালের ৮ মার্চ তিনটি চেকের মাধ্যমে মোট ১৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়; কিন্তু এই টাকা ওই গ্রাহক উত্তোলন করেননি বলে ব্যাংকে অভিযোগ করা হয়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আসামি নাজমুল হাসান ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। তিনি মৌলভীবাজার শাখায় তিনটি চেক জমা দিয়ে ওই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার আইডি ব্যবহার করে অনলাইন প্রক্রিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো ব্যক্তিদের সহায়তায় ১৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ধানমণ্ডি শাখায় স্থানান্তর করেন। পরে পুরো টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

এখতিয়ার না থাকার পরও তদন্ত করে পুলিশ : মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি রুজু করে ধানমণ্ডি থানা। এই দুটি ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্তের এখতিয়ার ও ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে; কিন্তু দুদক আইন অনুযায়ী ব্যাংক বা সরকারি বেসরকারি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আত্মসাতের মামলা তদন্তের ক্ষমতা দুদককে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে মামলাটি দুদক তদন্ত করছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে। তাই আইন অনুযায়ী দুদকই শুধু তদন্ত করতে পারে।

এই মামলার বাদী আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দেশেই আছি। আট মাস আগে অবসরে গেছি। তদন্ত কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।’

ব্যাংকের আইন কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, শুধু বাদী নয়, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেননি। যে তথ্য দিয়ে তিনি আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তা ভিত্তিহীন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তের এখতিয়ার আছে কি না জানি না। ওসি সাহেব আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তদন্ত করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে আমি উল্লেখ করেছি, কী কারণে আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।’

 

 


মন্তব্য