kalerkantho


সীতাকুণ্ডে দুই কিশোরী হত্যায় আবুলের স্বীকারোক্তি

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সুকুলতিকে ঘটনা দেখে ফেলায় ছবিকে খুন

এস এম রানা, চট্টগ্রাম ও সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



বারবার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং একপর্যায়ে গ্রাম্য সালিস বসিয়ে তিরস্কার করায় কিশোরী সুকুলতি ত্রিপুরাকে হত্যা করে আবুল হোসেন। হত্যার পর সুকুলতিকে রশিতে ঝোলানোর দৃশ্য দেখে ফেলায় শ্বাসরোধ করে একই রশিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তার প্রতিবেশী কিশোরী ছবি রানী ত্রিপুরাকেও।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর ত্রিপুরাপাড়ায় দুই কিশোরী সুকুলতি ত্রিপুরা (১৬) ও ছবি রানী ত্রিপুরা (১১) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এই জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে আবুল হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা কালের কণ্ঠকে জানান, মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

আবুল হোসেনের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, আসামি দীর্ঘদিন ধরে সুকুলতি ত্রিপুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল; কিন্তু বারবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কিছুদিন আগে সুকুলতির পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সালিসের আয়োজন করে। সেই সালিস থেকে আবুল হোসেনকে সতর্ক ও তিরস্কার করা হয়। তিরস্কৃত হয়ে সুকুলতি ত্রিপুরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। একপর্যায়ে শুক্রবার আবুল হোসেন খবর পায় সুকুলতির মা বাড়িতে নেই। বাবা গেছেন কাজে। একা অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে দুজন সহযোগীকে নিয়ে সুকুলতিদের বাড়িতে যায় আবুল হোসেন। ওই সময় আবারও প্রেমের প্রস্তাব দিলে সুকুলতি তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আবুল হোসেন। পরে দুই সহযোগীর সহায়তায় তাকে নাইলনের রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

আবুল হোসেনের জবানবন্দি উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরো জানান, সুকুলতিকে রশিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার সময়ই পাশের বাড়ি থেকে ছবি রানী ত্রিপুরা সেখানে গিয়েছিল। সুকুলতিকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় ছবি ত্রিপুরাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। এরপর তাকেও রশিতে ঝুলিয়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আসামি আবুল হোসেন তার দুই সহযোগীর নাম জানালেও তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। দুটি মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আসামিও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি।

পুলিশ সুপার জানান, ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রাতে দুই কিশোরীর মরদেহ সৎকার করা হয়েছে।

 


মন্তব্য