kalerkantho


বাজারে মধু মাসের ফল

শওকত আলী   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাজারে মধু মাসের ফল

রাজধানীর বাজারগুলোতে মিলছে আম, কাঁঠাল, লিচু। ছবি : কালের কণ্ঠ

মধুমাস নামে পরিচিত জ্যৈষ্ঠের আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল বৈশাখের শেষেই বাজারে উঠতে দেখা গেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এসব ফল বিক্রি হচ্ছে কিছুটা চড়া দামে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মধুমাসের কিছু ফল ফলের দোকানে শোভা পাচ্ছে। আম, কাঁঠাল ও লিচু গত সপ্তাহ থেকে বাজারে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে সরবরাহ কম থাকায় তাঁদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের অনেকে বেশি দামেই কিনছে এসব ফল। তাঁরা বলছে, বছরের প্রথম ফল, একটু বেশি দাম দিতে হলেও পরিবারের সবাই মিলে উপভোগের আনন্দই আলাদা।

ফল বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বাজারে যে আমগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ। এই আম প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা আশা করছেন, ভরা মৌসুমে এই আমের দাম ৪০-৫০ টাকায় নেমে আসবে। রামপুরা কাঁচাবাজারের ফল বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, ‘সাতক্ষীরার এই আমগুলো একটু আগে পাকে। তাই এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

গতকাল রামপুরা কাঁচাবাজারে ছোট আকারের লিচু বিক্রি করতে দেখা গেছে দুই বিক্রেতাকে। লিচুগুলো সোনারগাঁ ও সাতক্ষীরার বলে জানান তাঁরা। তবে কিছু বড় আকারের লিচুও ছিল। এগুলোর দামও খুব চড়া। ১০০ পিস ছোট লিচুর দাম ২৫০-৩৫০ টাকা এবং বড় আকারের লিচুগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে লিচু বিক্রেতা কামল মিয়া বলেন, ‘কিছু লিচু উঠতে শুরু করেছে মাত্র। সরবরাহ খুবই কম, দামটাও বেশি।’ কাঁঠালও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই। মাঝারি আকারের একেকটি কাঁঠালের দাম ৩৫০-৪০০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা। যে কারণে ক্রেতারাও বিমুখ।

বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে সারা বছরই উচ্চফলনশীল (উফশী জাতের) পেয়ারা পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে এর ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। তরমুজের মৌসুম শেষ হয়ে এলেও বাজারে এখনো দেখা মিলছে বৃহদাকৃতির এই ফলটির। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো। সরবরাহও বেশি। পাশাপাশি আনারস, কলা, আঙুর, আনার, কাঁচা তালের আঁটি, বাঙ্গিসহ নানা ধরনের ফলে এখন ছেয়ে আছে ফলের দোকানগুলো। আর কিছুদিনের মধ্যেই জাম, লটকন ও আমড়া পাওয়া যাবে।

এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুর দিকেই রোজা শুরু হবে। ইফতারির ফলের আইটেম নিয়ে ফল বিক্রেতারা খুবই উত্সুক। তাই ফলের বাড়তি জোগানের জন্য এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে পাইকাররা। রাজধানীর বাদামতলী ফলের আমদানিকারক ও দেশি ফলের পাইকারি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে রমজানের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে যথেষ্ট ফলের আমদানি হয়েছে। এ সময় দেশি ফলেরও সমাহার থাকে। আমরা আগে থেকেই ফল কেনার জন্য টাকা দিয়ে রেখেছি। আম লিচু কিছু কিছু করে আসতে শুরু করেছে।’

বাংলা অভিধানে ‘মধুমাস’ শব্দের অর্থ হলো, চৈত্র মাস। কিন্তু দেশের মানুষ জ্যৈষ্ঠ মাসকেই মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস বলে জানে। এভাবেই জ্যৈষ্ঠ মাসের সঙ্গে মধুমাস বিশেষণটি জড়িয়ে গেছে। গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠ, এ মাসে ফল পেকে রসের ভারে টইটম্বুর হয়। মৌসুমি এই ফলগুলো পুষ্টিগুণেও অন্যান্য ফলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

 



মন্তব্য