kalerkantho


বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা

সাভারে হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় জামালপুরে জিলা স্কুল বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা), রাজবাড়ী ও জামালপুর প্রতিনিধি   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সাভারে হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় জামালপুরে জিলা স্কুল বিজয়ী

জামালপুরে বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অতিথিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঢাকার সাভার, রাজবাড়ী ও জামালপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সাভার-ধামরাই অঞ্চলে সেরা হয়েছে হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। রাজবাড়ীতে সেরা হয়েছে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও জামালপুরে জিলা স্কুল।

সাভার-ধামরাই : সেখানে মোট আটটি স্কুলের লড়াই হয়। সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে হয় এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে সেরা হয় ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাভার উপজেলার ছয়টি ও ধামরাই উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান। সভাপতিত্ব করেন সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গোমেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক ও সাভার শুভসংঘের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ম. হামিদ রন্জু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রাসেল হাসান বলেন, ‘একজন মানুষকে যৌক্তিক হতে সাহায্য করে বিতর্ক। এটি শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।’

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলো হলো সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (সকাল শাখা), সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (দিবা শাখা), চাইল্ড হেভেন স্কুল, সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, এ্যাবাক পাবলিক স্কুল, তেঁতুলঝোড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ধামরাই আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। বিকেলে চূড়ান্ত পর্বে সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়কে (দিবা শাখা) হারিয়ে সেরা হয় ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। আর সেরা বিতার্কিক হয় একই স্কুলের জাহিদ হাসান।

অনুষ্ঠানে সব প্রতিযোগীকে সনদপত্র, শুভসংঘের গেঞ্জি ও স্কুলগুলোকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপহার হিসেবে সব প্রতিযোগী ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় বসুন্ধরা খাতা।

রাজবাড়ী : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য’ শীর্ষক বিষয়ে প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অঙ্কুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আরএসকে ইনস্টিটিউশন, ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়, কাজী হেদায়েত হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

পরে ‘তথ্যপ্রযুক্তি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প ব্যবস্থার উন্নয়নই আমাদের বেশি প্রয়োজন’ বিষয়ক বিতর্কে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। চ্যাম্পিয়ন হয় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দল। সেরা বিতার্কিক হয় রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দলনেতা সাম্য মণ্ডল কথা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এমপি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কালের কণ্ঠ’র এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’ কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি সরোয়ার মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল করিম প্রমুখ।

বিকেলে একই মিলনায়তনে অংশগ্রহণকারী আটটি স্কুলের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট, শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র, টি-শার্ট ও মধ্যাহ্নভোজের প্যাকেট, সেই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীসহ আগত অতিথি ও অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বসুন্ধরা পেপার মিলের পক্ষ থেকে একটি করে খাতা তুলে দেওয়া হয়।

জামালপুর : শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১১টায় এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আটটি স্কুলকে এই প্রতিযোগিতার জন্য তালিকাভুক্ত করা হলেও চার গ্রুপের চারটি স্কুলে পরীক্ষা ও অন্যান্য কারণে তারা অংশ নেয়নি। পরে নির্ধারিত বিচারক ও অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতায় চারটি স্কুলকে সরাসরি দ্বিতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। স্কুলগুলো হলো জামালপুর জিলা স্কুল, জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বানিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়।

দ্বিতীয় পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য’। এর মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় জামালপুর জিলা স্কুল ও জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চূড়ান্ত পর্বে জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তাত্ক্ষণিক প্রস্তুতি না থাকায় তারা অপারগতা দেখায়। পর্বের মডারেটর সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফিউর রহমান অন্য বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করে জামালপুর জিলা স্কুলের বিতার্কিক দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মাসুম আলম খান।



মন্তব্য