kalerkantho


ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগ

পাংশায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি    

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক ফরহাদের (৩৮) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। গত সোমবার রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলাটি করেন। মামলাটি রাজবাড়ী জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামি ফরহাদ একজন ব্যবসায়ীও। তাঁর বাড়ি পাংশা পৌর এলাকার নারায়ণপুরে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ শিক্ষক স্বামী ও ছেলেশিশুকে নিয়ে সুখেই সংসার করছিলেন। তিন বছর আগে তাঁর পিছু নেন ফরহাদ। তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি তিনি তাঁর স্বামীকে জানান। স্বামী এ ঘটনা আর না ঘটাতে ফরহাদকে নিষেধ করেন। তবে ফরহাদ কথা শোনেননি। একদিন গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ফরহাদ তাঁর (গৃহবধূ) ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। ফরহাদ হুমকি দেন, এই ঘটনা কাউকে বললে ভিডিওটি তিনি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। গৃহবধূ ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলেননি। পরে ফরহাদ গৃহবধূকে বলেন তাঁকে তিনি বিয়ে করবেন। এ জন্য তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে হবে। এ বিষয়ে ফরহাদ গৃহবধূর কাছ থেকে একাধিক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন এবং বলেন, ‘তোমার স্বামীর সঙ্গে তালাক ও আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।’ এরপর তিনি গৃহবধূকে বিভিন্ন সময়ে নানা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ পাংশা পৌর এলাকার কলেজপাড়া গ্রামের জুয়েল মাস্টারের ভাড়া বাসায় ফরহাদ গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে যান এবং দৈহিক মেলামেশা করেন। পরে গৃহবধূ ওই বাসায় থেকে যাওয়ার দাবি করতেই ফরহাদ তাঁকে বেধড়ক পেটান এবং বলেন, ‘তোর সঙ্গে আমি বিয়ের নাটক করেছি।’ মামলায় গৃহবধূ বলেন, আসামি ফরহাদ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাই গৃহবধূ মামলার প্রস্তুতি নিতেই তাঁকে হুমকি দেন ফরহাদ। মামলায় তাঁর সাক্ষীরাও সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে ওই গৃহবধূ (২৬) অভিযোগ করে বলেন, এই মামলার কারণে ফরহাদ তাঁকে খুনও করতে পারেন। তাঁর ধারণা, ফরহাদ এরই মধ্যে তাঁর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং টাকা দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর স্বামী তাঁর কোলের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।

অভিযুক্ত ফজলুল হক ফরহাদ বলেন, রাজনৈতিক কারণে একটি চক্র ওই গৃহবধূকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করিয়েছে। তিনি ওই গৃহবধূর সঙ্গে কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়াননি।


মন্তব্য