kalerkantho


আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

পার্বত্যাঞ্চল ভ্রমণকারীরাও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে!

তৌফিক মারুফ   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৯৩ শতাংশের অবস্থান তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। ম্যালেরিয়া নির্মূলে সফলতা আশাব্যঞ্জক হলেও ওই অঞ্চলের ঝুঁকির বিষয়টি বাধা হয়ে আছে। এ কারণে ভ্রমণকারীদের ওই এলাকায় সতর্ক থাকতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বুধবার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়, বেশি বৃষ্টিপাত, ঘন বনাঞ্চল, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সেবাদানজনিত সমস্যার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি কমছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে দেশে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ৪৫ জন। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ৯ জনে। তবে ২০১৬ সালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়ায়। গত বছর পদক্ষেপ জোরালো করার পরও মৃত্যু ঠেকানো যায়নি, মারা যায় ১৩ জন।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আকতারুজ্জামান জানান, পার্বত্যাঞ্চলের মধ্যে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝেও বাড়তি ঝুঁকি আছে। ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকার সব পরিবারে দুজনের জন্য একটি করে প্রায় এক কোটি বিশেষ কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেবল রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই তিন লাখ ৩৩ হাজার মশারি বিতরণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে দেড় লাখ বিতরণ শেষ হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, পর্যটকদের ঝুঁকির দিকে খেয়াল রেখে ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুসরণ করে একটি সহজবোধ্য গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগির ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকার হোটেলগুলোতে তা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের হাতে হাতে সরবরাহেরও ব্যবস্থা থাকছে।

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস : আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি ও ব্র্যাক যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য—‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রস্তুত আমরা।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে সিরডাপ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে।



মন্তব্য