kalerkantho


দেশে বিচার এড়ানোর পথ

যুক্তরাজ্যে ‘প্রটেক্টেড’ ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে তারেককে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে আদালতের রায় ও সাজা এড়াতে চাইলে যুক্তরাজ্যে শুধু রাজনৈতিক আশ্রয়ই নয়, ‘প্রটেক্টেড ক্যাটাগরিও’ বেছে নিতে হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে লন্ডন ও ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ও ভিসা অথরিটি তারেককে তাঁর অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছিল। ওই স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালে। এর পরও তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে পারবেন। তবে সে জন্য তাঁকে সেখানে বসবাসের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে।

জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে বসবাস করার সুযোগ আছে। এর মধ্যে দুটি তারেক রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একটি ক্যাটাগরি হচ্ছে ‘প্রটেক্টেড বা ‘স্টেটলেস’ ক্যাটাগরি এবং দ্বিতীয় ক্যাটাগরিটি হলো ডুয়েল সিটিজেনশিপ বা দ্বৈত নাগরিকত্ব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে আইনগত সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হলে এগুলোর যেকোনো একটি পথ বেছে নিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পথ হলো ‘প্রটেক্টেড’ ক্যাটাগরি। বর্তমানে তিনি বসবাসও করছেন ‘প্রটেক্টেড এরিয়ায়’। কিন্তু এ ক্যাটাগরিতে যোগ্য হতে হলে মূল দেশের নাগরিকত্ব বর্জন করতে হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থেকে যায়।

ওই কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, যুক্তরাজ্যে বসবাস করে কেউ ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা পেতে চাইলে তাঁকে ‘প্রটেক্টেড ক্যাটাগরি’ বেছে নিতে হবে। দ্বৈত নাগরিকরা ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা কূটনৈতিক সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোনো ব্যক্তির মূল দেশের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায় তাহলে ব্রিটিশ সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। বাংলাদেশ চাইলে তাঁকে ফেরত পাঠাতে হবে। তবে বন্দিবিনিময়ের ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া যাবে না এই মর্মে যুক্তরাজ্য সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এককভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বিশেষত ‘প্রটেক্টেড সিটিজেন’ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ আইনগত ও কূটনৈতিক সহায়তা মেলে। বাংলাদেশ সরকার চাইলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তা কার্যকর করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাজ্যের আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে মামলা চালাতে হবে।

 



মন্তব্য