kalerkantho


প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

৩২ ধারা নিয়ে বিএফইউজের উদ্বেগ

১০টি পর্যবেক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারাসহ কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন। এসব বিতর্কিত ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়ে ১০টি পর্যবেক্ষণ ও একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএফইউজের দাবি যৌক্তিক। আইনটির বিতর্কিত ধারা নিয়ে আগামী মে মাসের শেষ দিকে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করে তা সংশোধন ও পরিমার্জন করা হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএফইউজের পক্ষ থেকে সংগঠনটির চারজন নেতা এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক ৩২ ধারা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসংক্রান্ত ৩১ ধারা, মানহানিবিষয়ক ২৯ ধারা, ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতসংক্রান্ত ২৮ ধারা, আক্রমণাত্মক তথ্য-উপাত্তসংক্রান্ত ২৫ ধারা, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রচারণাসংক্রান্ত ২১ ধারা ইত্যাদি।

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ মধুসূদন মণ্ডল ও সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

মনজুরুল আহসান বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সেগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনটি সংসদে পাস করার পর তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা চেয়েছেন। তিনি জানান, বিএফইউজের প্রস্তাব হলো আইনটি গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োগ করতে হলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগটি প্রেস কাউন্সিলে যাবে। প্রেস কাউন্সিলে ছোট কমিটি বা সেলের মাধ্যমে এটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দেখা হবে। ওই সেল বা কমিটির অনুমোদন ছাড়া সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করা যাবে না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সম্পাদক পরিষদের মতো বিএফইউজের দাবিগুলোও যৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন। প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’-এর খসড়া সংসদীয় কমিটিতে আছে। তাই সেখানে আলোচনা হলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। তিনি জানান, গত রবিবার সিদ্ধান্ত হয়েছে যে মে মাসের শেষ দিকে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি, সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাডকোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বাক্স্বাধীনতার বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে, এ আইনের মাধ্যমে সেই বিষয়ে সন্দেহ থাকলে সেটা দূর করার জন্য যে প্রচেষ্টা নেওয়া দরকার, সেটা তাঁরা নেবেন।

 


মন্তব্য