kalerkantho


চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লা

‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ডাকাত নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ডাকাত নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত রবিবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ দুই ডাকাত এবং কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ডাকাত নিহত হয়েছে। উভয় ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্য আহত এবং পিস্তল, গুলিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের খবর জানানো হয়েছে।

কালের কণ্ঠ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিরা জানান, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার কুইচ্চাগাড়া এলাকায় রবিবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ওই ‘বন্ধুকযুদ্ধ’ ঘটে। নিহতরা হলো গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা নন্দলালপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে আতিকুল ইসলাম আতিক (৩০) ও জেলার ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছি এলাকার বাহার আলীর ছেলে মো. রাজিব (২৫)। আহত হয়েছেন ৪ র‌্যাব সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও কয়েকটি দেশি ধারালো অস্ত্র।

র‌্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সাঈদ আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, রবিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে কুইচ্চাগাড়া এলাকায় আড্ডা সড়কে পাঁচ-ছয়জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের একটি টহলদল সেখানে উপস্থিত হলে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুই ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয় এবং তিন-চারজন পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ক্যাম্প কমান্ডার জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, তিনটি হাঁসুয়া, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি জাসিম উদ্দিন জানান, নিহত দুজনই ডাকাতি মামলার আসামি। এর মধ্যে আতিক চারটি ও রাজিব দুটি মামলার আসামি। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

মুরাদনগরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত

আমাদের মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানান, কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আল আমিন (৩৫) ৯ মামলার আসামি। রবিবার রাত দেড়টার দিকে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের শুশুণ্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, পাঁচটি মুখোশ ও কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আল আমিন মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র।

পুলিশ জানায়, আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কসহ মুরাদনগর এবং আশপাশের উপজেলায় ডাকাতি করে আসছিল। রবিবার রাতে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের শুশুণ্ডা এলাকায় আল আমিন তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন খবর পেয়ে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) শাখাওয়াত হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা শটগান থেকে ৩৫ রাউন্ড গুলি চালায়। 

মুরাদনগর থানার ওসি এ কে এম মঞ্জুর আলম জানান, পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাত আল আমিন এবং পুলিশের এসআই গোফরান ও কনস্টেবল শামীমসহ তিন পুলিশ আহত হয়। আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে মুরাদনগরসহ বিভিন্ন থানায় ৯টি ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি পাইপগান ও দুটি রামদা, দুটি ছোড়া ও পাঁচটি মুখোশ উদ্ধার করেছে।



মন্তব্য