kalerkantho


জিএসএমএর প্রতিবেদন

ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে গড়ে ইন্টারনেট গ্রাহকের হার যেখানে জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে এই হার ১৮.২ শতাংশ। ইউনিক গ্রাহকও এ অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় কম। আরপু বা এভারেজ রেভিনিউ পার ইউজারও কম।

মোবাইল টেলিযোগাযোগশিল্পের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ এ তথ্য দিয়েছে। সংগঠনটির মূল্যায়ন হলো, বাংলাদেশে এই নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে মোবাইল ফোনশিল্পের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ ও স্পেকট্রামের চড়া মূল্যের কারণে। স্পেকট্রামের মূল্য বাংলাদেশে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অনেক দেশের চেয়ে অনেকে বেশি। মোবাইল ফোনশিল্পের ওপর নানা রকম শুল্কও এ দেশে বেশি। মোবাইল ফোনশিল্প দেশের আর্থসামজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও এ শিল্প থেকে টোব্যাকো কম্পানির মতো উচ্চহারে কর আদায় করা হচ্ছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনশিল্প নিয়ে নিজেদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন জিএসএমএর ভারপ্রাপ্ত হেড অব পাবলিক পলিসি (এশিয়া প্যাসিফিক) ইমানুয়েলা লেচি।

টেলিকম খাতে অন্যান্য খাতের চেয়ে উচ্চ করহার সম্পর্কে লেচি বলেন, এর প্রভাব পড়ছে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। গ্রাহকরা যদি মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা খরচ করে তাহলে তার ৫১.৭৫ শতাংশই সরকার কর হিসেবে নিয়ে নেয়।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও বিস্তারে উচ্চ করহার বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও জিএসএমএ মনে করছে।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে উচ্চ করহার মোবাইল ফোন সেটের সহজলভ্যতায়ও প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে বলা হয়, বৈধভাবে মোবাইল ফোনসেট আমদানিতে ২৫ শতাংশ কর দিতে বাধ্য হওয়ায় একদিকে স্বল্প আয়ের মানুষ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছে। থ্রিজি ও ফোরজি গ্রাহক বাড়াতে হলে ফোনসেটের ওপর কর কমাতে হবে। মোবাইল ফোনশিল্পে করহার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া বলা হয়, থ্রিজি ও ফোরজি সেবা চালুর পর থেকে মোবাইল ফোন অপারেটররা মানসম্মত সেবা দেওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট। কিন্তু চড়া মূল্যের কারণে প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম সংগ্রহ করতে তারা সক্ষম হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানের আয়োজক মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশ বা অ্যামটব-এর মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনে তরঙ্গের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। এ ছাড়া সিম ট্যাক্স, ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট ও সারচার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন অপারেটর কম্পানি রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান ও গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামালসহ অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


মন্তব্য