kalerkantho


সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া বাজেট অধিবেশনে পেশ হবে

তারেককে ফিরিয়ে আনতে আলোচনা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন করা হচ্ছে। ‘সড়ক পরিবহন আইন’-এর খসড়া তৈরি করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সড়ক পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কিছুই আইনের অধীনে আনা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে আগামী বাজেট অধিবেশনে এটি উত্থাপনের প্রস্তুতি রয়েছে। গতকাল শনিবার সিনিয়র সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৪১তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন আইনমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় আইনমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ব্যথিত ও দুঃখিত। আমি শুধু এটাই বলব, এগুলোর মামলা আদালতে এলে এমন শাস্তি দেওয়া হবে, তাতে যেন চালক, গাড়ির মালিক বুঝতে পারেন—এ রকম অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না। যথার্থ শাস্তি হবে।’ গতকাল রবিবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ সালে খসড়া অনুমোদন হওয়ার পর এ নিয়ে তিনটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। এখন ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন, তাই আমরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ মন্ত্রী বলেন, যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য তিন-চারটা জিনিস দেখতে হয়। এগুলো হচ্ছে প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও রাস্তা। এসব কিছু দেখে একটি পরিপূর্ণ আইন করতে সময় লাগছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি আইন আছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে যে আইনটি করার চেষ্টা করছে সেটা যুগোপযোগী। এ কারণে সময় লাগছে।

দুর্ঘটনাসংক্রান্ত মামলায় বিচার হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতে এসে বিচার হয়নি এবং কতগুলো মামলা তদন্তাধীন আছে সেগুলো বের করলে আপনারা (সাংবাদিকরা) বিচার না হওয়ার কারণ বের করতে পারবেন। আমি আপনাদের কাছে সহায়তা চাচ্ছি। আপনারা পরিসংখ্যান বের করুন। তাহলে এ সমস্যা দূর হবে।’

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে আলোচনা, যাদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পজিটিভ দিক দেখছি বলেই আলোচনা চলছে। না আনা পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে কি না সেটা আমি বলব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশটির (যুক্তরাজ্য) সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে কোনো বাধা নেই। এখন ‘মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্ট’ বলে একটি আইন রয়েছে। এই আইন অনুসারে কিছু কিছু অপরাধের অপরাধীদের আনা যেতে পারে। জাতিসংঘেও এটি একটি ধার্যকৃত আইন। সেই ক্ষেত্রে সেই কো-অপারেশনও (সমন্বয়) আমাদের দুই দেশের মধ্যে আছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সুদৃঢ়, দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করার জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেন। প্রত্যেক জেলায় পৃথক দশতলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যমান দোতলা জেলা জজ আদালত ভবনগুলো ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে চারতলা পর্যন্ত করা হচ্ছে। অনেক জেলায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সমস্যা সম্পূর্ণ দূর হয়েছে।



মন্তব্য