kalerkantho


চাকরিতে কোটা বাতিল

এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পায়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের পরিপত্র জারিসহ অন্যান্য কার্য সম্পাদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিফুর রহমান। বৈঠকে কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক ও জয়া সেনগুপ্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই পদক্ষেপ নেবে। এসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কোটার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।

কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিফুর রহমান জানান, বৈঠকে আলোচনা শেষে কোটা নিয়ে যাতে আগামী দিনে কোনো ঝামেলা না হয় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের ঘোষণার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রজ্ঞাপন জারির দাবি করেছে তারা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল। পুরো কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণায় এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয়।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন পদ্ধতি, গোপনীয়তা ও সুরক্ষা বিষয় এবং সরকারি কর্ম কমিশনের দক্ষতা ও মানোন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল বন্ধ, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষা কেন্দ্র কমানো এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা যুগোপযোগী করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারীকরণ এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়।


মন্তব্য